গঙ্গা সাগরের ধৰ্মীয় উৎসব মানের কপিল মুনির আশ্রম।
আশ্রমে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত একটি মেলা ও ধর্মীয় উৎসব গঙ্গা সাগর মেলা ও স্নান। হুগলি নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলন স্থানকে বলা হয় গঙ্গাসাগর। এটি একদিকে তীর্থভূমি আবার অন্যদিকে মেলা ভূমি। এই দুয়ের মেলবন্ধনে আবদ্ধ গঙ্গাসাগর মেলা। সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে হুগলি নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পতিত হয়েছে। এই সাগর দ্বীপ হল বঙ্গোপসাগরের মহাদেশীয় সোপানে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা কলকাতা শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গঙ্গা নদীর মর্ত্যে প্রত্যাবর্তন ও সাগর রাজার পুত্রদের জীবন বিসর্জনের লোকগাঁথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত তীর্থস্থান গঙ্গাসাগর।এই স্থানটি হিন্দুদের কাছে পবিত্র তীর্থ। তাই প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিন এখানে বহু লোক তীর্থস্নান করতে আসেন; তবে উত্তর ভারত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের ভীড়ই হয় সর্বাধিক। মেলাটি এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে পরিচালিত হয়, তবে মকর সংক্রান্তির (পৌষ সংক্রান্তি) দিনটি একক দিন হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুণ্যার্থীদের আকর্ষণ করে। কিংবদন্তি আছে, গঙ্গাসাগরে সাংখ্য দর্শনের আদি-প্রবক্তা কপিলমুনির আশ্রম ছিল। একদা কপিলমুনির ক্রোধাগ্নিতে সগর রাজার ষাট হাজার পুত্র ভস্মীভূত হন এবং তাদের আত্মা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। সাগর রাজার পৌত্র ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে নিয়ে এসে সগরপুত্রদের ভস্মাবশেষ ধুয়ে ফেলেন এবং তাদের আত্মাকে মুক্ত করে দেন।
হিন্দু মতে জন্ম ও মৃত্যুর যে অনন্তচক্র তার থেকে মুক্তিই হল মোক্ষ। হিন্দুদের বিশ্বাস, মকরসংক্রান্তির মহালগ্নে সাগরসংগমে পবিত্র জলে স্নান করলে মানুষের মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। সেই কারণে সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরের উপস্থিত হন। ঐতিহ্যগতভাবে, মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে – স্নানের জন্য সবচেয়ে লালিত দিন – হিন্দু তীর্থযাত্রীরা নির্ধারিত স্নানযোগ বা স্নানের সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। উক্ত দিন, হিন্দু ভক্তরা খুব ভোরে গঙ্গাসাগরসংগমে উপস্থিত হন এবং গঙ্গা ও সাগরের সঙ্গমে (মোহনা) নদীতে পবিত্র স্নান সম্পন্ন করেন। তীর্থযাত্রীদের স্নানের আচার-বিধিতে পুরোহিতগণ সাহায্য করেন, অনেক ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীরা সাধারণ ডুব যা ব্যক্তিগত ভাবে স্নান সম্পন্ন করেন। এই নদীর ধারের আচার-অনুষ্ঠানের পরে, তীর্থযাত্রী জলে ডুব দেয়, কিছুক্ষণ প্রার্থনা করেন। তারা সূর্য দেবকে নৈবেদ্য প্রদান করেন এবং ভগবান সূর্য দেবের উদ্দেশ্যে মন্ত্র উচ্চারণ করেন।
