হিন্দু ধর্মের বৈচিত্র অনেক। তবে সাধারণভাবে আমাদের ধারণা মঠ-মন্দির মানেই সেখানে নিরামিষ প্রসাদ নিবেদন করা হয়। কিন্তু বেশ কিছু বিখ্যাত মন্দিরে আছে এর ব্যতিক্রম।
- উত্তর কলকাতার বিখ্যাত মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি। সম্প্রতি ভোটপ্রচারে এসে এই মন্দিরে পুজো দেন নরেন্দ্র মোদি। ১৭০৩ সালে তান্ত্রিক সাধক উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, নির্জন এলারায় মন্দিরের ঘণ্টা বা কাঁসরের ঠনঠন আওয়াজ থেকে ওই এলাকার নাম ঠনঠনিয়া। দেবী এখানে সিদ্ধেশ্বরী অর্থাৎ যিনি ভক্তদের মানতপূরণ করেন। এখানে দেবীকে আমিষ প্রসাদ দেওয়া হয়। মাছের প্রসাদও নিবেদন করা হয়।
- একান্ন সতীপীঠের অন্যতম কালীঘাট মন্দির। পুরাণ মতে, এখানে সতীর ডানপায়ের আঙুল পড়েছিল। দেবীমূর্তি কোষ্ঠীপাথরের। তিনটি বড় চোখ এবং সোনা দিয়ে তৈরি লম্বা জিভ। চার হাতও সোনা দিয়ে বাঁধানো। দুই হাতে খড়্গ ও ছিন্ন মুণ্ড। অন্য দুই হাতে অভয় ও বরদান মুদ্রা। এই মন্দিরে বিশেষ তিথিতে পশুবলি প্রথা চালু রয়েছে। ওই মাংস আমিষ ভোগ হিসাবে দেবীকে নিবেদন করা হয়।
- ১৮৫৫ সালে জানবাজারের রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা ভবতারিণী। এখানে প্রতিদিন বহু পুণ্যার্থী ভিড় জমান। এই মন্দিরে প্রধানত নিরামিষ ভোগ হয়। তবে কালীপুজোর সময় মাছ, পোলাও, কচি পাঁঠার মাংসের বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়।
- বাংলার প্রধান শক্তিপীঠ হিসাবে পরিচিত তারাপীঠ। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যের সময় সতীর তৃতীয় নয়ন এই মন্দিরে পড়েছিল। বিশেষ দিনে মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। এই মন্দিরেও দেবীকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। মূলত মাছ ভোগ দেওয়া হয়। পরে তা ভক্তদেরও বিলি করা হয়।
- একান্ন সতীপীঠের মধ্যে অসমের কামাখ্যা মন্দিরও অন্যতম প্রাচীন এবং পবিত্র মন্দির। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই মন্দিরে সতীর যোনি পড়েছিল। এই মন্দিরে প্রতিদিন দুপুরে ভোগ নিবেদন করা হয়। দেবী কামাখ্যাকে মাছ এবং বলির পাঁঠার মাংসের ভোগ দেওয়া হয়। তবে তাতে কোনও পিঁয়াজ এবং রসুন ব্যবহার করা হয় না। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন দুপুরে অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়।
