www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

August 19, 2026 10:54 am

বাংলার ঘরে ঘরে চলেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ দেবতা মনসা দেবীর পূজা

বাংলার ঘরে ঘরে চলেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ দেবতা মনসা দেবীর পূজা। সাধারণত শ্রাবন ও ভাদ্রের সন্ধিক্ষণে দেবী মনসার পুজো করা হয়। শ্রাবন ও ভাদ্র মাসে বাংলাজুড়ে ঘরে ঘরে এবং লোকালয়ে ধুমধাম করে পালিত হয় নাগদেবী মা মনসার আরাধনা। সর্পভীতি দূর করা এবং পরিবারের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দেবী মনসার পূজা অত্যন্ত প্রাচীন এক লোকায়ত ঐতিহ্য। তবে দেবীর কৃপা পেতে শুধু নিয়ম-নিষ্ঠাই নয়, তাঁর প্রিয় কিছু বিশেষ ভোগ অর্পণ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। লৌকিক প্রথা ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু খাবারেই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন দেবী। মনসা পুজোর সবচেয়ে প্রধান এবং আবশ্যিক উপাদান হল দুধ ও পাকা কাঁঠালি কলা। সর্পকুলের দেবী হওয়ায় দুধ-কলা নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, কাঁসার বা মাটির পাত্রে খাঁটি দুধের সঙ্গে পাকা কাঁঠালি কলা ও সামান্য বাতাসা অর্পণ করলে দেবী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং গৃহকে সর্পভয় থেকে মুক্ত রাখেন।

মনসা পুজো বা অরন্ধনের দিন অনেক পরিবারেই উনুন জ্বালানো নিষেধ থাকে। তাই পুজোর আগের দিন রাতে রান্না করা ভাত জলে ভিজিয়ে তৈরি করা হয় ‘পান্তা ভাত’। শান্ত ও শীতল প্রকৃতি পছন্দ করায় দেবী মনসাকে এই শীতল পান্তা ভাত, তার সঙ্গে আগের দিন রান্না করা কচু শাক ও নানাবিধ নিরামিষ পদ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা প্রাচীন বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ। বর্ষাকালের জলজ ফুল শাপলা এবং কচু গাছ দেবী মনসার অত্যন্ত প্রিয়। পুজোয় দেবীর চরণে পদ্মের পাশাপাশি শাপলা ফুল অর্পণ করার রীতি রয়েছে। এছাড়া ভোগে কচু শাক, মানকচু বিশেষ নিরামিষ পদ অর্পণ করা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীকে এই পদগুলো নিবেদন করলে সংসারে শ্রী বৃদ্ধি ঘটে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *