www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

February 21, 2024 9:01 pm

খবরে আমরাঃ গরু পাচার-কাণ্ডের সিবিআই জুজু এখনও থিতিয়ে যায়নি। তারই মাঝে বগটুই-কাণ্ডে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম সরাসরি জড়িয়েছে। সিবিআই ঘটনার তদন্তভার নেওয়ার পর থেকে অনুব্রত-র ওপর চাপ বেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। আর এবার অনুব্রত-র গ্রেফতারির আশঙ্কা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল যে রিপোর্ট বগটুই থেকে গিয়ে পেশ করেছে, তাতে রয়েছে তাঁর দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম। মমতার দাবি, এ ভাবে অনুব্রত-র নাম সামনে এনে আদতে তাঁকে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করছে বিরোধী শিবির। পাশাপাশি সিবিআই তদন্ত চলাকালীন বিজেপির এই তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন মমতা।

ঘটনার পরেই রামপুরহাটে দিল্লি থেকে বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠানো হয়। সেই কমিটি ফিরে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে সাংসদ ব্রিজলাল, সত্যপাল সিং, কেসি রামামূর্তি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও জাতীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষের সই রয়েছে। সূত্রে খবর, রিপোর্টে বলা হয়েছে মূলত সাতটি বিষয়। তা হল, বাংলায় তৃণমূলের শাসনে মাফিয়ারা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজত্ব করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের যে সব নাগরিকরা আইনের শাসন মেনে চলতে চান, সরকারের ওপর তারা সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন।বগটুই গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে, তা রাজ্য সরকার অনুমোদিত তোলাবাজির পরিণাম ছাড়া আর কিছুই না। গুন্ডা ট্যাক্স, কাটমানি, তোলাবাজির ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির অনুসন্ধানকারী দল কলকাতা ফিরে আসার পরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে বিজেপি প্রতিনিধি দলকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর বিজেপির দলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশের কোনও অফিসার বা আধিকারিক আমাদের উদ্ধার করতে আসেননি। আমরা ডিজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।আমরা জানতে পেরেছি বগটুইয়ের পাশবিক ঘটনার সময় এসডিপিও ও ইন্সপেক্টর অব পুলিশ ঘটনাস্থলের সামনেই উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। আততায়ীদের আগুন লাগানোর থেকেওই তাঁরা বাধা দিতে পারেননি। তারা পদক্ষেপ নিয়ে অনেকগুলি প্রাণ বেঁচে যেত। সেই গ্রামের সাধারণ মানুষরা ভয়ে আছেন। এনএইচআরসি, জাতীয় মহিলা ও শিশু কমিশন ও তাদের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বগটুই গ্রামের গিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের সুপারিশ যে পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের যে সব অফিসাররা কাজ করছেন তাদের সাংবিধানিত দায়িত্ববোধ তাদের মনে করানো প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিৎ তাদের কড়াভাবে সতর্ক করা।

আর এর পরে্ই মমতা-কেষ্টর শুরু হয়েছে সিবিআই জুজু। এ দিনই উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, তদন্ত ছাড়া কী ভাবে আমার জেলা সভাপতির নাম দেওয়া হল। তার মানে ওরা গ্রেফতার করতে চায়! আসলে ওরা সবাইকে গ্রেফতার করতে চায়। দলের সব কর্মী, তাদের পরিবারকে গ্রেফতার করতে চায়। শুধু বিজেপি থাকবে আর জিনিসপত্রের দাম বাড়াবে।

বিজেপি প্রথম থেকেই বগটুই কাণ্ড নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিল। এবার এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই জাতীয় রাজনীতিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে বিজেপি, এমনটা মত রাজনৈতিক মহলের।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *