যুদ্ধে উন্মত্ত পৃথিবী। এই মুহূর্তে পৃথিবীকে শান্ত করতে পারে ধৰ্মীয় শান্তির বার্তা। আর সেই বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে বাগবাজার গৌড়ীয় মিলন মঠ। এই ঘোর কলিকালে মানবিকতার পাঠ দিতে এবার কোমর বেঁধে নামছে বাগবাজারের গৌড়ীয় মিশন। লক্ষ্য একটাই— শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেম ও শান্তির দর্শনকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই বিদেশের মাটিতে এবার পা রাখতে চলেছে মিশনের নিজস্ব স্কুল ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’। ইতিমধ্যেই কলকাতা বা নবদ্বীপের মঠে এই স্কুলের পঠনপাঠন বেশ জনপ্রিয়। সেখানে শুধু বইখাতার প্রথাগত শিক্ষা নয়, জোর দেওয়া হয় আদর্শ চরিত্র গঠন ও আধ্যাত্মিক চেতনার ওপর। এবার সেই মডেলই রপ্তানি হতে চলেছে লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায়। মিশনের আচার্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজ আগামী ১৪ মে পাড়ি দিচ্ছেন এই চার দেশে। বিদেশের মাটিতে স্থানীয় ভাষায় পৌঁছে দেওয়া হবে ভারতীয় দর্শনের নির্যাস।
১৯৩৫ সালে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ। পরে ১৯৬৬ সালে মেলে সরকারি স্বীকৃতি। এখন সেই ধারাকে আরও আধুনিক রূপ দিয়েছে মিশনের রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সেখানে সংস্কৃত বা দর্শনের পাশাপাশি শেখানো হয় গৌড়ীয় নৃত্য ও মৃদঙ্গ। আসলে বর্তমান প্রজন্মের ক্ষয়ে যাওয়া মূল্যবোধকে আগলে রাখতেই এই অভিনব উদ্যোগ। বিদেশের মাটিতেও যখন মৃদঙ্গের বোলে শ্রীচৈতন্যের আদর্শ ধ্বনিত হবে, তখন হয়তো খানিকটা হলেও শান্ত হবে এই অশান্ত পৃথিবী। সেই আশাতেই এখন বুক বাঁধছেন ভক্তরা।
