এসআইআর। গতবছর থেকে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া, জাতীয় রাজনীতি উত্তাল করে দেওয়া তিনটি অক্ষর। নানা কারণে অন্তত সাড়ে সাত কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে এই প্রক্রিয়ায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নিয়ে প্রবল সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। কিন্তু এসআইআর মনে ধরেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর কথায় অনেকেই মনে করছেন, এবার আমেরিকার ভোটার তালিকাও সাফাই করা হবে ভারতের এসআইআরের আদলে। দিনকয়েক আগে ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জানান, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিরাট দেশে কেন প্রত্যেক ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র নেই? ট্রাম্পের সামনে এই প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ। ওই আলোচনার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বোধোদয়’ হয়েছে। নিজের দেশে ভোট পদ্ধতি এবার আমূল বদলে ফেলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রাথমিকভাবে আমেরিকার ভোট সংস্কৃতির দু’টি বিষয় বদল করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। প্রথমত, সচিত্র পরিচয়পত্র। ট্রাম্প বলেছেন, “গত নির্বাচনে ভারতের ৬৪ কোটির বেশি ভোটার ছিলেন। প্রত্যেকের কাছে বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র থাকাটা বাধ্যতামূলক ছিল ভারতে।” দ্বিতীয়ত, মার্কিন নাগরিকদের ‘বাড়িতে বসে ভোট’ দেওয়ার নিয়মকেও তুলোধোনা করেছেন ট্রাম্প। আসন্ন নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট কমাতে চাইছেন তিনি। আপাতভাবে এসআইআরের মতো কোনও প্রক্রিয়ার কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেরকম কিছু একটা পদক্ষেপ করার পথে এগোচ্ছে আমেরিকা। সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি (SAVE) নামে একটি বিল ইতিমধ্যেই পেশ হয়েছে মার্কিন সংসদে। সেভ আমেরিকা অ্যাক্টটি জানুয়ারি মাসে পেশ হয়েছিল। তবে এখনও পাশ হয়নি বিলটি। ট্রাম্প চাইছেন এই বিল যত দ্রুত সম্ভব পাশ হোক।
