হিন্দুদের প্রধান দেবতা দেবাদিদেব মহাদের ভক্তদের প্রতি সবসময় খুবই সদয়। ভক্তের যে কোনও বিপদেই তাকে রক্ষা করেন মহাদেব— এ ধারণা নতুন নয়। আর তাই তামিলনাড়ুর আদুথুরাইয়ের মন্দিরে শিব ভক্তের কাছে ধরা দেন অভৎসহায়েশ্বরর নামে, যার অর্থ, বিপদের সময়ের রক্ষাকর্তা। কাবেরী নদীর তীরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রাচীন শিবমন্দিরের মধ্যে আদুথুরাইয়ের শ্রী অভৎসহায়েশ্বরর মন্দির (Avatsahayeswarar Temple) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তামিল শৈব সাধকরা তাঁদের ভক্তিগীতিতে যে ২৭৫টি পবিত্র শিবক্ষেত্রের প্রশংসা করেছিলেন, এটিই তারই অন্যতম। সপ্তম শতাব্দীর শৈব সাধক তিরুঞ্জানসম্পন্দর ও আপ্পার তাঁদের ভক্তিগীতিতে অভৎসহায়েশ্বররের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। মন্দিরে রয়েছেন দেবীমূর্তিও, স্থানীয় ভাষায় তাঁর নাম পাভালাকোডিয়াম্মাই।
পরবর্তী সময়ে চোল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরটির ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ হয়। বিশেষ করে চোল রানি সেম্বিয়ান মহাদেবী-র অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক শিলালিপি থেকে জানা যায়, তাঁর উদ্যোগে পুরনো ইটের কাঠামোর পরিবর্তে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দিরে পাওয়া প্রায় ১৫টি শিলালিপি, যা মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এগুলিতে মন্দিরের প্রদীপ জ্বালানো, পূজা, নৈবেদ্য, জমি ও অন্যান্য দানের বিবরণ রয়েছে। এর ফলে শুধু ধর্মীয় ইতিহাস নয়, সেই সময়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
