www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

June 3, 2026 9:28 am

সনাতন ধর্মের অন্যতম পুণ্যোৎসব রথযাত্রা। আগামী ১৬ জুলাই (৩১ আষাঢ়), বৃহস্পতিবার পালিত হবে এই উৎসব।

সনাতন ধর্মের অন্যতম পুণ্যোৎসব রথযাত্রা। আগামী ১৬ জুলাই (৩১ আষাঢ়), বৃহস্পতিবার পালিত হবে এই উৎসব। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবীর এই রথযাত্রা কেবল লোকায়ত উৎসব বা বাহ্যিক ধর্মীয় শোভাযাত্রা নয়। এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক পরম আধ্যাত্মিক সত্য। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং এই উৎসবের গূঢ় অন্তর্নিহিত ভক্তিমূলক ভাবকে প্রকাশ করে গিয়েছেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের চোখে রথযাত্রা আসলে এক দিব্য পুনর্মিলনের মহোৎসব। লিখছেন ড. সুমন্ত রুদ্র (ডিন, ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার)। কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর অমর সৃষ্টি ‘চৈতন্যচরিতামৃত’। সেখানে পুরীর রথযাত্রার এক অনুপম রূপ বর্ণিত হয়েছে। নীলাচলে জগন্নাথদেবের রথের সামনে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেই আকুল নৃত্য এবং ভাবাবেগ আজও ভক্তমনে ভক্তিরস জোগায়। মহাপ্রভুর সেই পদাবলি মূলত ছিল শ্রীমতী রাধারানীর বিরহবেদনার বহিঃপ্রকাশ।

দ্বারকার রাজকীয় ঐশ্বর্য ছেড়ে শ্রীকৃষ্ণকে পুনরায় বৃন্দাবনের মাধুর্য ও অন্তরঙ্গ প্রেমে ফিরিয়ে আনার আকুলতাই ছিল মহাপ্রভুর ভাবান্দোলনের মূল ভিত্তি। চৈতন্যচরিতামৃত’-এর মধ্যলীলায় মহাপ্রভুর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল এক বিখ্যাত শ্লোক— ‘সেই ত পরাণ-নাথ পাইনু। যাহা লাগি’ মদন-দহনে ঝুরি’ গেনু।’ এর গূঢ় অর্থ হল, দীর্ঘ বিরহের পর আজ যেন জীবাত্মা তার পরমাত্মার সন্ধান পেল। বৈষ্ণব দর্শনে রথযাত্রা তাই কোনও বহির্যাত্রা নয়। তা আসলে অন্তরের কৃষ্ণাভিমুখী এক পরম যাত্রা। কৃষ্ণ একই থাকলেও, ভক্তহৃদয় সর্বদা তাঁর ঐশ্বর্যের পরিবর্তে বৃন্দাবনের মাধুর্যকেই কামনা করে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *