হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে শঙ্খধ্বনি এক মধুর ধ্বনি। খুবই পবিত্র ধৰ্মীয় ধ্বনি। মনে করা হয়, শঙ্খ হল দেবী লক্ষ্মীর ভাই এবং এটি বাড়িতে থাকলে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। যে কোনও শুভ কাজ শুরু করার আগে শঙ্খ বাজানোর প্রথা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। শঙ্খ বাজানোর সবচেয়ে ভালো সময় হল সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত। সকালে শঙ্খ বাজালে দিনটি ভালো যায় এবং মনে ইতিবাচক ভাব তৈরি হয়। সূর্যাস্তের সময় শঙ্খধ্বনি করলে ঘরের অশুভ শক্তি দূর হয়ে শান্তি ফিরে আসে। বিশেষ করে সন্ধ্যারতির সময় শঙ্খ বাজানোর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে প্রকৃতির শক্তিতে রদবদল ঘটে, তাই শঙ্খের আওয়াজ পরিবেশকে পবিত্র করে তোলে। পুজো বা আরতির শুরুতে শঙ্খনাদ করলে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি পায়।
শঙ্খ বাজানোর একটি বড় গুণ হল এটি আমাদের ফুসফুসকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সঠিক উপায়ে শঙ্খ বাজালে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে এবং হার্ট ভালো থাকে। এছাড়া শঙ্খের শব্দে আশেপাশের জীবাণুও নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী গভীর রাতে শঙ্খ বাজানো একদমই উচিত নয়। মনে করা হয়, অসময়ে শঙ্খ বাজালে ঘরের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সূর্য ডোবার পর আরতি শেষ হয়ে গেলে আর শঙ্খ বাজানো নিয়ম নয়। শঙ্খ ছোঁয়ার আগে হাত-পা ধুয়ে পরিষ্কার হওয়া বা স্নান করা একান্ত প্রয়োজন। অশুদ্ধ অবস্থায় বা নোংরা হাতে এই পবিত্র জিনিস স্পর্শ করা ঠিক নয়। শঙ্খ সবসময় একটি পরিষ্কার কাপড়ের ওপর বা সিংহাসনে সাজিয়ে রাখা উচিত।
