www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 23, 2026 8:54 pm

মাঙ্গলিক দোষ' বা 'ভৌম দোষ' শব্দটি হিন্দুধর্মে খুবই প্রচলিত।

মাঙ্গলিক দোষ’ বা ‘ভৌম দোষ’ শব্দটি হিন্দুধর্মে খুবই প্রচলিত। জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে বিচার করলে, যখন কোনও জাতক বা জাতিকার কোষ্ঠীতে লগ্ন সাপেক্ষে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ স্থানে ‘মঙ্গল’ গ্রহ অবস্থান করে, তাকেই বলা হয় ‘মাঙ্গলিক দোষ’ বা ‘ভৌম দোষ’। শাস্ত্র মতে, মঙ্গল হল তেজ, সাহস এবং রাগের প্রতীক। এই গ্রহের অবস্থান যদি অশুভ হয়, তবে বিবাহিত জীবনে কলহ, মানসিক দূরত্ব, এমনকি জীবনসঙ্গীর অকাল মৃত্যুর মতো চরম আশঙ্কার কথাও বলা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যদি একজন মাঙ্গলিক ব্যক্তির সঙ্গে একজন অ-মাঙ্গলিক ব্যক্তির বিয়ে হয়, তবে সেই দাম্পত্য সুখের হয় না বলেই প্রাচীন বিশ্বাস।

এই ‘দোষ’ কাটানোর জন্যই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে ‘প্রতীকী তর্পণ’ বা ‘দোষ স্থানান্তর’ প্রক্রিয়া। এর পেছনে মূল ভাবনাটি হল: জ্যোতিষীদের মতে, মাঙ্গলিক দোষের সবচেয়ে বড় কোপ পড়ে প্রথম বিয়ের ওপর। তাই একটি কলাগাছকে প্রথম স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে সাজিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, মঙ্গলের যা কিছু বিষ বা অশুভ নজর, তা ওই গাছের ওপর গিয়েই আছড়ে পড়ে।বিয়ের আচার মিটে গেলেই নিয়ম মেনে সেই গাছটিকে কেটে ফেলা হয় বা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মানে হল—ব্যক্তির প্রথম বিবাহটি কার্যত শেষ হয়ে গেল এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় অমঙ্গল ওই গাছটির সঙ্গেই বিদায় নিল। গাছটি নষ্ট করার পর যখন সেই ব্যক্তি আসল পাত্র বা পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে করেন, সেটি শাস্ত্রীয় হিসেবে তাঁর ‘দ্বিতীয় বিবাহ’ বলে গণ্য হয়। যেহেতু প্রথম বিয়ের সঙ্গেই অশুভ শক্তি ধুয়েমুছে গিয়েছে, তাই দ্বিতীয় দাম্পত্যে আর মঙ্গলের কোনও প্রভাব থাকে না বলেই ভক্তদের বিশ্বাস।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *