www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 29, 2026 7:41 pm

বিয়েবাড়ি হোক কিংবা পুরোহিতের দক্ষিণা- নতুন পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে হাতে একটা সুন্দর নকশা করা খাম ধরিয়ে দিলেন।

বিয়েবাড়ি হোক কিংবা পুরোহিতের দক্ষিণা- নতুন পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে হাতে একটা সুন্দর নকশা করা খাম ধরিয়ে দিলেন। অথচ সেই খামের কোণে তাকিয়ে দেখলেন আঠা দিয়ে সাঁটা রয়েছে একটি এক টাকার উজ্জ্বল মুদ্রা। কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে, যেখানে হাজার টাকার নোট ভিতরে দিব্যি রয়েছে, সেখানে বাইরের ওই খুচরো এক টাকার কয়েনটার গুরুত্ব ঠিক কোথায়? এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। আসলে ভারতীয় তথা হিন্দু সংস্কৃতিতে উপহারের খামে বা দক্ষিণার সঙ্গে দেওয়া ওই এক টাকার মুদ্রাটি স্রেফ ‘টাকা’ নয়; এটি আশীর্বাদ, প্রগতি এবং অটুট সম্পর্কের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আসলে শাস্ত্র অনুযায়ী উপহারের টাকার শেষে শূন্য রাখা উচিত নয়। কেন উপহারের অঙ্কের শেষে ‘শূন্য’ রাখা ‘নৈব নৈব চ’, তার নেপথ্যে রয়েছে চমৎকার কিছু কারণ।

শাস্ত্রে ‘শূন্য’ বা জিরো মানেই সব শেষ। কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি কেউ ইতি টানতে চান? একদমই না। হিন্দু শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ১০০, ৫০০ বা ১০০০— এই সংখ্যাগুলো শূন্যে গিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ এখানে একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বা গাণিতিকভাবে একটি ইতি পড়ছে। উপহারের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে যখন সেটাকে ১০১ বা ৫০১ করা হয়, তখন সংখ্যাটি আর বিভাজ্য থাকে না। এই ‘অবিভাজ্যতা’ই আসলে সম্পর্কের গভীরতা আর স্থায়িত্বের প্রতীক। যাতে আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে আপনার টান কখনও ভাগ না হয়ে যায়, সেই কামনায় এই ব্যবস্থা। আবার সাংস্কৃতিক বিশ্বাস বলে, ধাতব মুদ্রায় স্বয়ং মা লক্ষ্মী অবস্থান করেন। তাই কাগজের নোটের সঙ্গে একটি কয়েন দেওয়া মানে প্রাপকের হাতে সৌভাগ্যের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া। একে অনেকে ‘বিনিয়োগের বীজ’ হিসেবেও দেখেন। এক টাকা দিয়ে নতুন করে সংখ্যা গণনা শুরু হয়, যা আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির শুভ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, উপহারের প্রাপক যেন জীবনে কখনও ‘শূন্য’ হাতে না দাঁড়ান, তাঁর উন্নতির চাকা যেন ১-এর হাত ধরে চলতেই থাকে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *