আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হিরে-মানিক বসানো সানগ্লাস কেবল নামী তারকাদের চোখেই দেখে থাকি আমরা। রেড কার্পেটের বিলাসবহুল ফ্যাশনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা। কিন্তু জানেন কি, ভারতের ইতিহাসে ছিল এমনই হীরকখচিত রোদচশমা, আর তা নিছক ফ্যাশন অ্যাক্সেসরি নয়, ছিল নিত্য ব্যবহার্য। চশমার ফ্রেমের চারপাশে তো বটেই, চশমার কাচটা অবধি তৈরি করা হয়েছিল সাধারণ কাচ নয়, বরং মূল্যবান পাথর কেটে। এমনই দুটি অবিশ্বাস্য চশমা ২০২১ সালে লন্ডনের সোদ্যবাইজ (Sotheby’s)-এর নিলামে ওঠে। জনসমক্ষে আসতেই তা ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। একটি চশমার লেন্স হিরে কেটে তৈরি করা হয়েছিল। অন্যটির লেন্স কাটা হয়েছিল আসল পান্না থেকে। দুটির নামও কম আকর্ষণীয় নয়— ‘হ্যালো অফ লাইট’ (‘Halo of Light’) এবং ‘গেট অফ প্যারাডাইস’ (‘Gate of Paradise’)।
‘হ্যালো অফ লাইট’ দেখলে প্রথমে চোখে পড়ে হলুদ ধাতুর ফ্রেমজুড়ে বসানো রয়েছে ছোট ছোট হিরে। দুটি স্বচ্ছ, প্রায় বর্ণহীন প্রাকৃতিক হিরেকেই অত্যন্ত পাতলা করে কেটে লেন্সের আকার দেওয়া হয়েছিল। ঐতিহাসিকদের অনুমান, হিরেগুলির প্রাপ্তিস্থান ভারতের গোলকোন্ডা অঞ্চল, প্রায় ২০০ ক্যারটের হীরে সেগুলি। এমন শক্ত, মূল্যবান রত্নকে এত নিখুঁতভাবে কেটে স্বচ্ছ লেন্সে পরিণত করা এতটাই কঠিন কাজ, যে তা আজও সহজে কল্পনা করা যায় না। অন্যদিকে রয়েছে ‘গেট অফ প্যারাডাইস’, যার লেন্স তৈরি হয়েছে স্বচ্ছ সবুজ পান্না দিয়ে। ধারণা করা হয়, একটি বিশাল পান্না থেকে দুটি লেন্সই কাটা হয়েছিল। অনুমান করা হয়, মূল পান্নাটির ওজন ৩০০ ক্যারেটেরও বেশি। সোবেথির নিলামে ‘হ্যালো অফ লাইট’-এর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ১৯.১৬ কোটি টাকা, আর ‘গেট অফ প্যারাডাইস’-এর মূল্য প্রায় ৩১.৯৪ কোটি টাকা। এর পরের বছর, ২০২২ সালে, প্যারিস ফ্যাশন উইকে সঙ্গীতস্রষ্টা ফ্যারেল ইউলিয়ামস-এর পরনে পরনে দেখা যায় টিফানি অ্যান্ড কো-র তৈরি একটি বিশেষ হিরে-পান্নার সানগ্লাস। তাতে ছিল ৬১টি গোলাকার হিরে এবং দুটি পান্না। আধুনিক নকশাটির জন্য অনুপ্রেরণা যে এই দুই প্রাচীন মুঘল রোদচশমা (Mughal Sunglasses) থেকেই নেওয়া, তা বলে দেওয়া যায় এক নজর দেখেই।
