হিন্দুশাস্ত্রে দান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনও বস্তু প্রদান নয়। অহংকার ত্যাগ এবং আত্মার শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া। নিঃস্বার্থভাবে নিজের সম্পদ, জ্ঞান এবং সামর্থ্য অন্যকে অর্পণ করার পুণ্যময় কাজই হল দান। শাস্ত্র অনুযায়ী, কোনও প্রতিদানের আশা না করে সৎপাত্রে, সঠিক সময়ে এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে দান করলে হতে পারে পুণ্যলাভ। সনাতন হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, দান মূলত চার প্রকার। ক্ষুধার্তকে অন্ন দান, অসুস্থকে ওষুধ দান, অজ্ঞানকে বিদ্যাদান এবং অসহায়কে অভয় দান। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক ধ্যান। রয়েছে বস্ত্র দান, লবণ দান, সপ্তধন দান এবং ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দান। অন্নদান হল মহাদান। শুধুমাত্র ক্ষুধা নিবৃত্তি হয় না। জীবন ধারণেরও সহায়ক। শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী অন্নপূর্ণা হলেন খাদ্য়ের দেবী।
যিনি পার্বতীর এক রূপ। শিবকে অন্নদান করেছিলেন। তাই খাদ্য কোনও সাধারণ বস্তু নয়। এটি ঐশ্বরিক এবং পবিত্র। অন্নকে ব্রহ্মস্বরূপ মনে করা হয়। ক্ষুধার্তকে অন্নদান করার অর্থ সরাসরি ঈশ্বর আরাধনা করা। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, যিনি দরিদ্রকে খাদ্য ও অর্থ সাহায্য করে তিনি মহত্ত্বম। হিন্দুশাস্ত্রে বস্ত্রদান অত্যন্ত পুণ্যের। শাস্ত্রানুসারে অনেকেই বিশ্বাস করেন, কাউকে বস্ত্র করলে চন্দ্রলোক কিংবা স্বর্গলোকে স্থান লাভ হয়। বিশ্বাস করা হয়, বস্ত্রদান করলে ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচকতা দূর হয়। পারিবারিক জীবনে উন্নতি হয়। দাতার আধ্যাত্মিক ও মানসিক উন্নতি হ। কারও জন্ম কিংবা মৃত্যুর পর বস্ত্রদান করা অত্যন্ত শুভ। এটি পাপ মুক্তির সহায়ক। শুক্রবার, কোনও অমাবস্যা কিংবা পুজোর সময় বস্ত্রদান করুন। তাতে মিলবে পুণ্য। কোনও বিবাহিত মহিলাকেও শাড়ি দান করতে পারেন। আর তার সঙ্গে মঙ্গলসূত্র দেওয়া অত্যন্ত মঙ্গলময়।
