একবিংশ শতাব্দী। বর্তমানে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুজো মানেই চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা, জাঁকজমক এবং বিশাল থেকে সুবিশাল দেবী প্রতিমা। যেন মূর্তির উচ্চতা নিয়ে চলে নিঃশব্দ প্রতিযোগিতা। জানেন কি, প্রতিমার দৈর্ঘ্য নিয়ে এমন দর্শন কেবল এই শতাব্দীতেই নয়, শুরু হয় ১৮ শতকের সময় থেকেই। এই সময় কলকাতা তথা গোটা ভারতবর্ষকেই নিজের মতো করে পরখ করেছিলেন ইউরোপের শিল্পী বালথাজার সলভিন্স। ছবি আঁকতেন থিয়েটারের জন্য। কিন্তু তাঁর শখ ছিল অন্য। ভারতীয় জীবনযাত্রা যেন নয়াভাবে প্রাণ পেয়েছিল তাঁর কাগজ-কলমে। এটাই ছিল তাঁর অন্যতম পছন্দের কাজ। কলকাতার দুর্গাপুজোকে কী ভাবে দেখেছেন তিনি?
বিখ্যাত শিল্পীর জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “বালথাজারের জন্ম বেলজিয়ামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পরে ইউরোপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হতেই তিনি চলে আসেন ভারতবর্ষে। তিনি তাঁর দু’টি বিখ্যাত বইতে ভারতবর্ষের মানুষের জীবনযাত্রা এবং পৌরাণিক নানা উপাখ্যান তুলে ধরেছিলেন। একটি হল ‘এ কালেকশন অব টু হান্ড্রেড এন্ড ফিফটি কালার্ড এচিংস: ডিসক্রিপটিভ অব দ্য ম্যানার্স, কাস্টমস এন্ড দ্য ড্রেসেস Lion দ্য হিন্দুজ’, এবং অন্যটি ‘লেস হিন্দুজ’। চার খণ্ডের এই বই ছাপা হয়েছিল প্যারিসে। এই বইগুলির মধ্যেও দুর্গাপুজোর ছবি দেখতে পাই।”জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, বালথেজারের ছবিতে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে দুর্গা ঠাকুরের মূর্তি। সেই সময়েও বিশালাকার মূর্তি তৈরি করা হত। ১৮ শতকের শেষ থেকেই দেবী মূর্তি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়া শুরু হল। ১০-২০ ফুট প্রায়। তাঁর ছবিতে ফুটে ওঠে দেবী সামনে রাখা রয়েছে নৈবেদ্য। সামনে বসে পুজো করছেন পুরোহিত। বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ঢাক ও কাঁসর। এমনকি ঢাকির ঢাকের সঙ্গে যুক্ত পালকের মতো এক বস্তু। যেন পুরোপুরিই আজকের কলকাতার ছবি।
