প্রবাসের বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে ধরে রেখে জার্মানির মাটিতে আবারও এক টুকরো বাংলা ফিরিয়ে আনতে চলেছে ইগনাইট ই.ভি.। ওই সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে বার্লিনের সবচেয়ে বড় দুর্গাপুজো- ‘বার্লিন সর্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬’। টানা ছয়দিন ধরে গণেশ মন্দির অনুষ্ঠিত হবে এই পুজো। ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করা এই পুজো এখন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ইউরোপের মাটিতে প্রবাসী বাঙালি ও ভিনদেশি সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক জমজমাট মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশের পুজোগুলি কেবল সপ্তাহান্তে বা দু’তিন দিনে সীমাবদ্ধ থাকলেও বার্লিনের এই দুর্গাপুজো ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আয়োজকদের মতে, এ বছর প্রায় ৭,০০০ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। পুজো ঘিরে একেবারে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
এবারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল প্রতিদিনের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। ছ’দিন ধরেই সকল সদস্যের জন্য দুপুরের ও রাতের খাবারের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমারটুলি থেকে নিয়ে আসা প্রতিমা। বিখ্যাত মৃৎশিল্পী মিন্টু পালের হাতে তৈরি এই প্রতিমা প্রবাসের বুকে খাঁটি বাঙালিয়ানার আমেজ ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে, এই পুজোর পুরোহিত মহাশয়ও বেশ চমকপ্রদ—তিনি ১৯৬০ সাল থেকেই বার্লিনে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রথা রক্ষা করে চলেছেন। তাছাড়া কুমারী পুজোও হবে। সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে পুরোদমে। কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে সংস্কৃতির এক মস্ত বড় মঞ্চ। প্রতিদিন সদস্য এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এ বছরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো অষ্টমী রাতে (১৮ অক্টোবর) বাংলার জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘লক্ষ্মীছড়া’-র লাইভ পারফরম্যান্স। জার্মানিতে এটি এই বিখ্যাত ব্যান্ডের প্রথম পরিবেশনা, যা ঘিরে প্রবাসী বাঙালিদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এছাড়া তিন দিনব্যাপী এক বিশাল ফুড ফেস্টিভ্যালে ভারতীয় ও বাঙালি খাবারের সমাহার থাকবে।
