দেবী ধূমাবতী হলেন তান্ত্রিক হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে দশমহাবিদ্যার সপ্তম মহাবিদ্যা। তিনি মহাশক্তি দুর্গার একটি ভীষণা ও রহস্যময়ী রূপ। তিনি অভাব, দারিদ্র্য, শোক ও অশুভ শক্তির বিনাশকারী হিসেবে পরিচিত। দেবী ধূমাবতী বৃদ্ধা, কুৎসিত বিধবার বেশে সজ্জিতা এবং কাক ও চতুর্মাস ইত্যাদি অশুভ প্রতীক বা অমঙ্গলজনক বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
*দেবী ধূমাবতী পূজার মূল দিকগুলি:পূজার ধরণ: দেবী ধূমাবতীর পূজা প্রধানত তান্ত্রিক বা বামাচারে (tantric bhamachar) করা হয়। তিনি “অলক্ষ্মী” বা অশুভের প্রতীক হওয়ায় সাধারণ গৃহস্থরা সচরাচর তাঁর পূজা করেন না।
- উপযুক্ত পূজক: এই পূজা সর্বত্যাগী, সন্ন্যাসী, এবং তান্ত্রিক সাধকদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। তান্ত্রিক মতে, দেবীর পূজা শ্মশান বা নির্জন স্থানে করা হয়।
- বিশেষ দিন: প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, যা ধূমাবতী জয়ন্তী বা আবির্ভাব তিথি নামে পরিচিত, তাঁর পূজা বিশেষভাবে পালিত হয়।
- মন্ত্র ও প্রক্রিয়া: ধূমাবতীর মূল মন্ত্র হল “ধূঁ ধূঁ ধূমাবতী স্বাহা”। পূজা সাধারণত রাত্রিকালে করা হয় এবং দেবীকে সরষের তেল, কালো তিল, ভাঙ, এবং শুকনো খাবার (ভোগ) নিবেদন করা হয়।
- মন্দির: বারাণসীতে অন্নপূর্ণা মন্দিরের কাছে, ঝাড়খণ্ডের রাজরাপ্পা এবং আসামের কামাখ্যা মন্দিরের কাছে তাঁর মন্দির রয়েছে।পূজার তাৎপর্য ও
- সুবিধা:তান্ত্রিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী ধূমাবতীর পূজা করলে জীবনের নেতিবাচকতা, দুর্ভাগ্য, গোপন শত্রু এবং দুঃখের বিনাশ হয়। এটি সাধককে আধ্যাত্মিক শক্তি, সিদ্ধি এবং মোক্ষ দানে সাহায্য করে এবং বৈরাগ্য বা সংসার-বিরাগী মনোভাব জাগিয়ে তোলে।
