www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

May 27, 2024 3:08 pm
chhath pija

কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে হয় ছট পুজো ৷ ছট পুজো হল আদতে সূর্যদেব এবং তাঁর পত্নী ঊষা ও প্রত্যুষাদেবীর পুজো।  বৈদিক যুগ থেকে সূর্যদেবতার পুজো চলে আসছে। তাহলে নাম কেন ছট পুজো? আসলে ছয় কথাটাকে নেপাল বা উত্তর ভারতের অনেকে ছট বলে থাকেন। পুজোটি ষষ্ঠীর দিন হয়, সেখান থেকেই ছট শব্দের উৎপত্তি।

আর তা থেকেই ছট পুজো। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র ও সীতাদেবী শুক্ল ষষ্ঠীর দিনেই সূর্যদেবের আরাধনা করেছিলেন। আবার দ্বাপরে সূর্যপুত্র কর্ণ অঙ্গদেশের রাজা ছিলেন। তিনিও সূর্যদেবের পুজো করেন ৷ দীপাবলীর ঠিক ৬ দিনপরে কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে এই পুজো করা হয়। তাই এর নাম ছট পুজো। আবার আরেক পৌরাণিক মতে, সূর্যদেবের ছোট বৌ ঊষাকে এই পূজায় ‘‘ছোটি মইয়া” হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
সেখান থেকেই ছট পূজার (Chhhath Puja) নামটি প্রচলন হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়‚ বৈদিক যুগের আগে থেকেই ছট পুজো বা সূর্য উপাসনার চল ছিল।মহাভারতে পঞ্চ পাণ্ডব এবং দ্রৌপদী পালন করেছিলেন এই উৎসব। এমনকি, রামায়ণেও (Ramayan) আছে রাম সীতার ছট পুজোর কথা। যাঁরা ছট পুজো করে থাকেন, তাঁরা ভাইফোঁটার পর থেকেই টানা নিরামিষ খান। এই নিরামিষে পেঁয়াজ রসুনও জায়গা পায় না। পুজোর দু’দিন আগে লাউয়ের যেকোনও পদ খেতে হয়। পুজোর ঠিক আগের দিন ‘খারনা’ নামের একটি নিয়ম পালিত হয়।

এই সময় সূর্যদেবের (Surja Dev) উদ্দেশ্যে পায়েস, লুচি, কলা অর্পণ করা হয়। ছট পুজোর ডালাতে থাকে হলুদ গাছ, আম পল্লব, নারকেল, কলার কাঁদি, বিভিন্ন ফল, ঠেকুয়া ও খাস্তা টিকরি। নদীর ঘাটে বসে একমনে সূর্যদেবের আরাধনা করার পর নামতে হয় কোমর জলে। নদীর বুকে দাঁড়িয়ে পুজোর ডালা সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করে, ধূপ ধুনো দেখিয়ে হয় আরতি। অবশেষে পরিবারের সকলের নাম করে একটা একটা করে প্রদীপ ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীর বুকে। এটাই এই পুজোর নিয়মরীতি (spiritual)। ডালার প্রসাদ বাড়িতে নিয়ে যান সকলে।

বাড়ি ফেরার পরও কিন্তু উপোস ভাঙা হয় না।  পরের দিন ভোরে আরও একবার সূর্য পুজোর জন্য ঘাটে যেতে হয়। যাঁরা মানত করেন তাঁরা বাড়ি থেকে ঘাট পর্যন্ত দণ্ডি কাটেন। প্রণাম করা হয় উদয়গামী আর অস্তগামী সূর্য ও তাঁর স্ত্রী ঊষা আর প্রত্যুষাকে। তারপরেই ব্রতীরা ভঙ্গ করেন উপবাস। তারা বিশ্বাস করেন‚ ছটপুজোয় সব ইচ্ছা পূর্ণ করেন সূর্যদেব। সংসারের মঙ্গলকামনায় গৃহিণীরাই এই পুজো করে থাকেন। কলা-সহ বিভিন্ন রকম ফল‚ ঠেকুয়া‚ চালের লাড্ডু হল পুজোর প্রসাদ। ছট পুজোর শেষ দিনে ‘মৎস্যমুখী’ অনুষ্ঠান হয় অনেক পরিবারে।

ছট পূজার ইতিহাস (Chhath Pujar Itihas)

ছট পূজা ভারতবর্ষের এক অতি পৌরাণিক পূজা,তাই ছট পূজার ঐতিহাসিক মহত্ব নিছক কম না। হিন্দু ধর্মের অন্যান্য দেব দেবীর মত মানব কল্যানে সূর্য পত্নী ছট মায়ের পূজা করা হয়। তবে অনেক অনাথ মাতা পিতা সন্তান প্রাপ্তির আশায় ছট পূজা করে থাকে। ছট পূজার সন্তান প্রাপ্তির আশায় ছট পূজার ব্রত কথা নিয়ে একটি পৌরাণিক কাহিনী শোনা যায়। পৌরাণিক যুগে একজন ধর্মপ্রাণ রাজা ও রানী ছিল। রাজ্যের প্রজারা ধনধান্যে সুখে শান্তিতে বসবাস করলেও রাজা ও রানীর মনে সুখ ছিলনা।

তারা সন্তান প্রাপ্তির আশায় বহু সাধু মনীষীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিন্তু কিছুতেই তাদের সন্তান প্রাপ্তির মনবাঞ্ছা পূরণ হয়নি। একবার মহর্ষি কাশ্যপ রাজার ঘরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। রাজা রানী উভয়েই ভক্তি ভরে মহর্ষি কাশ্যপের সেবা করে। মহর্ষি কাশ্যপ খুশি হয়ে তাদের সন্তান প্রাপ্তির আশীর্বাদ করেন। মহর্ষির আশীর্বাদে রানী গর্ভবতী হয় এবং মৃত সন্তান প্রসব করে। তখন রাজা ও রানী ক্ষোভে দুঃখে জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে আত্ম হত্যা করার জন্য নদীতে ঝাঁপ দিতে গেলে  ছট মাতা তাদের দর্শন দিয়ে ছট পূজা করার জন্য বলেন।

ছট মায়ের অভয়ে সন্তান প্রাপ্তির আশায় কঠোর বিধি নিয়ম মেনে রাজা রানী উভয়েই উপোস করে ভক্তি ভরে ছট মাতার পূজা করেন এবং তাদের পুত্র সন্তান প্রাপ্তি হয়। এরপর থেকে রাজা ও রানী দুজনেই কার্তিক মাসের চতুর্থীর দিন থেকে চার দিন,নিষ্ঠার সাথে  ছট মায়ের ব্রত  পালন করতে থাকে। রাজ্যের প্রজারা রাজা ও রানীর ভক্তি ভরে ছট পূজার ব্রত করা দেখে রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ছট মায়ের ব্রত কথা ও ছট পূজার মহত্বের প্রচার হয়।

রামায়ণে শ্রী রামচন্দ্রের ছট পূজা

রাজা দশরথের পুত্র শ্রী রামচন্দ্র ছিলেন সূর্য বংশের সন্তান, সূর্য বংশের কুল দেবতা ছিলেন সূর্য। রামায়ণের কাহিনী অনুসারে শ্রী রামচন্দ্র ও সীতা দেবী সহ ভাই লক্ষণকে সাথে করে চৌদ্দ বছর বনবাস কাটিয়ে দীপাবলির দিন অযোধ্যায় ফিরে আসেন। অযোধ্যায় ফিরে এসে শ্রী রামচন্দ্রের রাজ্য অভিষেক হয়। অযোধ্যায় রামচন্দ্র,রাম রাজ্য স্থাপনের জন্য প্রজার মঙ্গল কামনায় কার্তিক মাসে শুক্ল ষষ্ঠীতে রামচন্দ্র ও সীতা দেবী কঠোর বিধি নিয়মে উপবাস রেখে কুল দেবতা সূর্যের উপাসনা করেন। কালক্রমে শ্রী রামচন্দ্র এবং সীতা দেবীর সূর্যের উপাসনা ধীরে ধীরে মানব কল্যাণের নিরিখে ছট পূজায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।

 মহাভারতে দ্রৌপদী ও পঞ্চপাণ্ডবদের ছট পূজা

মহাভারতের কাহিনী অনুসারে ‘বনপর্বে’ দ্রৌপদী এবং পঞ্চপান্ডবেরা তাদের কৌরবদের সাথে পাশা খেলায় হারানো রাজপাট ফিরে পাবার জন্য একনিষ্ঠ ভাবে ছট পূজা করেছিলেন।

মহাভারতে সূর্য পুত্র কর্ণের ছট পূজা

মহাভারতের বনপর্বে বর্ণিত কাহিনী অনুসারে পান্ডবদের মাতা কুন্তী সূর্যদেবের আরাধনায় সূর্যদেবের আশীর্বাদে  কর্ণের জন্ম হয়। কিন্তু পিতৃ পরিচয় অজ্ঞাত যুবরাজ দাতা কর্ণ অঙ্গরাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রতিদিন প্রাতঃকালে গঙ্গাস্নানের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত সূর্য পূজা করতেন। এরপর থেকে হস্তিনাপুর অঙ্গরাজ্যবাসী প্রজারা পরিবার ও রাজ্যের মঙ্গল কামনায় সূর্যের উপাসনা রাজ্য বাসীর প্রধান পূজা রূপে স্বীকৃতি পায়।

ছট পূজা কেন করা হয় (Chhath Puja Keno Kora Hoy)

ছট পূজা হল সূর্য দেব ও সূর্য দেবের স্ত্রী উষা মানে ছট মাতার উপাসনা। সূর্যের কিরণেই পৃথিবীতে প্রাণের উৎসের সঞ্চার হয়। সূর্য থেকে আগত রশ্মি গাছের পাতায় সালোকসংশ্লেষে অংশগ্রহন করে। সালোকসংশ্লেষের মধ্যে দিয়ে গাছের পাতায় গ্লুকোচ রূপে সৌর শক্তিকে সঞ্চয় করে রাখে। উদ্ভিদের পাতায় জমা হওয়া সৌর শক্তি আমাদের জীবনে প্রাণের খোরাক যোগায়।

নিয়মিত সূর্য প্রণাম করলে একদিকে যেমন প্রাণবন্তময় উজ্জ্বল দীপ্ত স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায় অপরদিকে তেমনি সমগ্র জীবকুলের প্রাণের উৎস সূর্য দেবতাকে কৃতিজ্ঞতা জানানো হয়। ছট পূজার মধ্যে দিয়ে সূর্য দেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এক অনাবিল আনন্দের অনুভূতি পাওয়া যায় এবং আগামী দিনে নিজ পরিবারের কল্যান সুখী,প্রশান্ত থাকার জন্য নিষ্ঠার সাথে ছট মাতার পূজা করা হয়। এছাড়াও নিয়মিত সূর্য প্রণামের সঠিক মন্ত্র উচ্চারণের করলে ব্যক্তির মানস পঠে সূর্য দেবের কৃপায় সারাদিন ব্যাপি অদৃশ্য শুভ শক্তির ছত্রছায়া লাভ করা যায়।

ছট পূজা প্রকৃত পক্ষে দেখতে গেলে সূর্য দেবের শক্তির পূজা করা। কিন্তু ছট পূজার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন মা গঙ্গা ও মা অন্নপূর্ণা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের কাহিনী অনুসারে আষাঢ় মাসে বর্ষার প্রাদুর্ভাব ঘটলে চাষিরা মাঠে ফসল বুনে দেয়। কিন্ত ধীরে ধীরে আকাশ থেকে বৃষ্টি অর্দৃশ্য হয়ে যায়। অপরদিকে সূর্য দেবের প্রচন্ড দ্রাব দ্রাহে মাঠের ফসল মাঠেই মরতে শুরু করেছে। মা অন্নপূর্ণা তখন মাঠের মধ্যেই মূর্ছা হয়ে পড়ছেন। চাষিদের ঘরে অন্নাভাবে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

সূর্য দেবের প্রখর রোদ্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মা অন্নপূর্ণা তখন উপায় না দেখে সূর্য দেবের ধ্যানে ব্রতী হন। কিন্তু সূর্য দেবের ধ্যানে মা অন্নপূর্ণার আরো করুন দশা হয়। সূর্যের প্রচন্ড তাপে মা অন্নপূর্ণার শরীর জ্বলে গিয়ে ক্ষীণ দশায় পৌঁছে যায়। মা অন্নাপূর্ণার করুন পরিস্থিতি দেখে দেবলোকে দেবতারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। সমস্ত দেবতারা তখন একত্রিত ভাবে সূর্য দেবের স্মরণাপন্ন হয়ে মা অন্নপূর্ণার দুরাবস্থার কথা তুলে সূর্যের কাছে তুলে ধরেন।

সূর্য দেব তখন ‘মা অন্নপূর্ণাকে গঙ্গাদেবীর আশ্রয় নিয়ে,  কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষে ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যাস্তকালে এবং সপ্তমীতে সূর্যদয়ের সময় সূর্যের ছটা অথাৎ সূর্যের রশ্মি দেখে সূর্যের ১২ খানা নাম জপ করলে ধরাধাম অন্নে পরিপূর্ণ হওয়ার আশ্বাস দেন ।’ আর যে ব্যক্তি কার্তিক মাসের শুক্ল ষষ্ঠীর দিন সূর্যের অথাৎ ছট মায়ের ব্রত করবে তার পরিবারের কল্যাণ হবে সংসারে সুখ শান্তি বজায় থাকবে। তাই প্রতিবছর বিশেষ করে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষেরা কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষে ষষ্ঠী তিথিতে গঙ্গা ঘাটে কিংবা কোনো বড় জলাশয়ের ধারে ছট মাতার ব্রত বড় নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে থাকেন।

 সূর্য দেবের বারো খানা নাম কি কি

ব্রহ্মান্ড পুরানের কাহিনী অনুযায়ী বিশ্বকর্মার বোন তনয়ার সঙ্গে সূর্য দেবের বিবাহ হয়। কিন্তু তনয়া দেবী সূর্য দেবের প্রচন্ড তাপ প্রবাহ সহ্য করতে অসমর্থ হলে, বিশ্বকর্মা সূর্য দেবকে মোট বারো (১২ ভাগ) ভাগে ভাগ করে দেন। সূর্য দেবের ১২ টা ভাগ হল আমাদের ১২ মাসের সূর্য রশ্মির ভিন্ন প্রতিফলন । ১২ মাসে সূর্য বিভিন্ন রূপে আলাদা আলাদা কোনে কিরণ দিয়ে থাকেন। বিশ্বকর্মা ভগবান দ্বারা খণ্ডিত সূর্য দেবের ১২ টি অংশ ১২ মাসে পৃথক নামে ব্রহ্মাণ্ডে উদিত হয়। সূর্য দেবের ১২ টি অংশের মাস অনুযায়ী নাম হল

বৈশাখ মাসের নাম তপনঃ

জ্যৈষ্ঠ মাসের নাম ইন্দ্রঃ
আষাঢ় মাসের  নাম রবিঃ
   শ্রাবণ মাসের নাম গর্ভস্থিঃ

ভাদ্র মাসের নাম যমঃ
            আশ্বিন মাসের নাম হিরণ্যরেতাঃ
         কার্তিক মাসের নাম দিবাকরঃ
         অগ্রহায়ণ মাসের নাম মিত্রঃ
    পৌষ মাসের নাম –  বিষ্ণুঃ
    মাঘ মাসের নাম অরুণঃ
     ফাল্গুন মাসের নামসূর্যঃ
         চৈত্র মাসের নাম বেদজ্ঞঃ

ছট পুজো কবে?

কার্তিক মাসের ষষ্ঠী তিথির সূচনা হবে ১৮ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টা ১৮ মিনিট থেকে। পরের দিন ১৯ নভেম্বর সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে ষষ্ঠী তিথি সমাপ্ত হবে। উদয়া তিথি অনুযায়ী ১৯ নভেম্বর ছট পুজো পালিত হবে।

আস্থার মহোৎসব ছট কার্তিক চতুর্থী তিথি থেকে শুরু হয়। ১৭ নভেম্বর ছট পুজোর প্রথম দিন। এদিনটিতে স্নান ও খাওয়া সংক্রান্ত এক বিশেষ রীতি পালিত হয়। ১৭ নভেম্বর সূর্যোদয় হবে ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৭ মিনিটে।

ছট পুজোর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় খরনা। ১৮ নভেম্বর খরনা। এদিন ভোর ৬টা ৪৬ মিনিটে সূর্যোদয় হবে। সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিটে।

ছট পুজোর সন্ধ্যা অর্ঘ্যের তারিখ ও সময়

ছট পুজোর তৃতীয় দিন অর্থাৎ কার্তিক শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতেই প্রধান পুজো করা হয়ে থাকে। যাঁরা উপবাস করেন তাঁরা এই তিথিতে কোনও নদী, পুকুর বা জলাশয়ে গিয়ে নিয়মপালন করে পুজো করেন। তার পর অস্ত যাওয়া সূর্যকে অর্ঘ্য দেন। চলতি বছর ১৯ নভেম্বর ছট পুজোর সন্ধ্যা অর্ঘ্য় দেওয়া হবে। ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিটে সূর্যাস্ত। এটিই সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

ছট পুজোর ভোরের অর্ঘ্যের তারিখ ও সময়

ছট পুজোর চতুর্থ ও শেষ দিনে উদিত সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার মাধ্যমে পুজো সম্পন্ন করা হয়। কার্তিক শুক্ল সপ্তমী তিথিতে উদিত সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এ দিনই ব্রতপারণ করা হয়ে থাকে। ২০ নভেম্বর উদিত সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার সময়ে ৬টা ৪৭ মিনিট।

ছট পূজা পদ্ধতি বিধি প্রথম দিন স্নান ও সংযম চতুর্থীর দিন ছট পূজার উপোসীরা স্নান করে নতুন কাপড় পড়ে পূজাঅর্চনা করে এবং ছট পালনের জন্য সংকল্প করে। তারপর নিরামিষ বিনা নুনে ছোলার ডাল,মিষ্টি কুমড়োর এবং লাউয়ের সবজি দিয়ে ভাত রান্না করে নিজে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খেতে দেয়।

দ্বিতীয় দিন খরনা ব্রত পালন  ছট পূজার দ্বিতীয় দিন অথাৎ পঞ্চমীর দিনকে খরনা বলা হয়। খরনা ব্রতর দিন যিনি ছট পূজার ব্রত করছেন সেই মহিলা উনুনে কাঠের আঁচে গুড়ের পায়েস তৈরী করে প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করে। তারপর থেকে ছট ব্রতী আগের ৩৬ ঘন্টার জন্য নির্জলা উপবাস রাখেন।

তৃতীয় দিন ছট পূজা সন্ধ্যা আরতি ও অর্ঘ্য নিবেদন   ছট পূজার তৃতীয় দিন অথাৎ কার্তিক মাসের শুক্ল ষষ্ঠীর দিনও ছট পূজার ব্রতী হওয়া মহিলারা খরনা ব্রতর দিন শুরু হওয়া দীর্ঘ্য ৩৬ ঘন্টার নির্জলা উপবাসের মধ্যই থাকে। ঐ দিন ছট পূজার প্রসাদ হিসাবে ঠেকুয়া এবং লাড্ডূ তৈরী করা হয়। তারপর সেইদিন সন্ধ্যা বেলা স্বপরিবারে নতুন বস্ত্র পড়ে নদী কিংবা বড় জলাশয়ে গিয়ে কপালে সিঁদুর লাগিয়ে ফুল,বেলপাতা,গোটা আখ,হলুদ গাছ ইত্যাদি ধামা ভরে নিয়ে গিয়ে  একবুক জলে সূর্যাস্তে ঢলে পড়া সূর্যকে অর্ঘ্য নিবেদন করে। এইভাবে পরের দিন অথাৎ তৃতীয় দিনের জন্য ছট ব্রতীদের উপবাস অক্ষুন্ন থাকে।

চতুর্থ দিন উষা অর্ঘ্য ও আরতি  ছট পূজার চতুর্থ দিন অথাৎ সপ্তমীর দিন সকালবেলা প্রাতঃকালে ছট ব্রতী মহিলারা নদী বা জলাশয়ের ধারে গিয়ে একবুক জলে নেমে উদিত সূর্যকে প্রণাম করে ছট পূজার অর্ঘ্য নিবেদন করে। তারপর নিজের চারিদিকে ০৭ পাক ঘুরে দিক পরিক্রমা করেন। এইভাবে সূর্যদেবের জলোভিষেক পরিক্রমা করে ছট পূজা সম্পন্ন হয়। তারপর অন্যান্য ভক্তদের মধ্যে ছট পূজার প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং ছট ব্রতী উপোসীরা ছট মায়ের প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করে।ছট পূজার চারদিন ছট পূজায় ব্রতী মহিলারা খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে। ছট পূজার বিধি নিয়ম ছট ব্রতী মহিলা কঠোর নিয়মের মধ্যে পালন করেন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *