হিন্দুশাস্ত্র মনে করে আপনি যদি বজরংবলী বা হনুমানজিকে খুশি করতে পারেন, তাহলে হনুমানজির আশীর্বাদে আপনার জীবন খুলে যাবে। তবে তার জন্য মানতে হবে বাস্তুশাস্ত্রের নির্দেশ। বজরংবলী বা হনুমানজির ছবি তো ঘরে ঘরেই দেখা যায়। ভক্তিভরে অনেকেই তাঁর পুজোও করেন। কিন্তু জানা আছে কি, এই ছবি যদি বাস্তু নিয়ম মেনে সঠিক জায়গায় রাখা যায়, তবে সংসারে অনেক উপকার হতে পারে? অনেকেই হয়তো না জেনেই ঘরের যে কোনও জায়গায় ঠাকুরের ছবি রেখে দেন। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, হনুমানজির ছবি ঠিক দিকে রাখলে ঘরের সমস্ত নেগেটিভ বা খারাপ শক্তি দূরে পালায় আর পজিটিভ শক্তি বা ভালো এনার্জি ফিরে আসে। কিন্তু প্রশ্ন হল, হনুমানজির কোন ছবি ঘরের ঠিক কোথায় রাখা সবচেয়ে ভালো? কী বলছেন বাস্তুবিদরা? বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, হনুমানজির ছবি বা মূর্তি সব সময় দক্ষিণ দিকে রাখা উচিত। মনে করা হয়, দক্ষিণ দিক থেকে অনেক সময় নেগেটিভ শক্তি আসে। তাই দক্ষিণ দিকে মুখ করে একটি লাল রঙের হনুমান মূর্তি বা ছবি রাখলে, ওই দিক থেকে আসা সমস্ত অশুভ শক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঘরে সুখ শান্তি বজায় থাকে আর বিপদের ভয় থাকে না।
বাস্তু বলছে, হনুমানজির আলাদা আলাদা ছবির আলাদা আলাদা গুণ আছে। যেমন:
- রামের নাম জপ করছেন: বাড়িতে যদি এমন ছবি থাকে যেখানে হনুমানজি ভগবান রামের ধ্যানে মগ্ন বা তাঁর নাম জপ করছেন, তবে তা পরিবারের জন্য খুব ভালো। এই ছবি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, মনের মিল ও বোঝাপড়া বাড়ায়।
- হাতে পর্বত নিয়ে বজরংবলী: এমন ছবি ঘরে রাখলে মনের জোর অনেকটা বেড়ে যায়। জীবনে নতুন কিছু করার উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস সব সময়ই অটুট থাকে।
- আকাশে উড়ন্ত হনুমানজি: আকাশে উড়ছেন হনুমানজি, এমন ছবি জীবনে সফল হওয়ার নতুন রাস্তা খুলে দেয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছবি ঘরে থাকলে কঠিন কাজও খুব সহজে হয়ে যায়।
- পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি: বাড়ির মূল দরজায় পঞ্চমুখী হনুমানজির ছবি বা মূর্তি রাখা ভীষণ শুভ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এটি কোনও নেগেটিভ বা অশুভ শক্তিকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেয় না। তাই বাড়িতে হনুমানজির ছবি রাখার কথা ভাবলে, বাস্তুর এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলা যেতে পারে। এতে জীবনে অনেক পজিটিভ পরিবর্তন আসতে পারে।
