রথযাত্রা উৎসবের পুণ্যলগ্নে দেশজুড়ে শুরু হবে জগন্নাথ বন্দনা। ওড়িশার পুরী ধাম থেকে শুরু করে বাংলার আনাচে-কানাচে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবেন ভক্তরা। সনাতন ধর্মে বলা হয়, ভক্তির উপাচারে দেবতা তুষ্ট। তবে প্রত্যেক দেবতারই নিজস্ব কিছু প্রিয় ফুল ও সামগ্রী থাকে। শাস্ত্র ও পুরীর মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের অত্যন্ত প্রিয় কিছু ফুল রয়েছে, যা দিয়ে পুজো করলে তিনি দ্রুত সন্তুষ্ট হন। আপনিও যদি বাড়িতে বা মন্দিরে জগন্নাথ দেবের পুজো করতে চান, তবে জেনে নিন মহাপ্রভুর প্রিয় ফুলের তালিকা এবং কোন ফুল তাঁর পুজোয় একেবারেই নিষিদ্ধ। জগন্নাথ দেব আসলে স্বয়ং শ্রী বিষ্ণু বা কৃষ্ণ অবতার। তাই শ্রীহরি বিষ্ণুর মতোই তুলসী পাতা জগন্নাথ দেবের চরণে অত্যন্ত প্রিয়। তুলসী ছাড়া মহাপ্রভুর পুজো বা ৫৬ ভোগ অর্পণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এছাড়া তাঁর পুজোয় পদ্ম ফুলের (Lotus) স্থান সবার উপরে। পদ্ম ফুলকে পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক মনে করা হয়, যা মহাপ্রভুকে অর্পণ করলে ভক্তের মনের বাসনা পূর্ণ হয়।
মহাপ্রভু সুগন্ধী ফুল অত্যন্ত ভালোবাসেন। পুরীর মন্দিরে প্রতিদিন সাজসজ্জার জন্য এবং পুজোর উপাচারে এই ফুলগুলি ব্যবহার করা হয়।
মালতী ও জুঁই (Jasmine): এই সাদা সুগন্ধী ফুলগুলি দিয়ে প্রতিদিন মহাপ্রভুর মালা তৈরি করা হয়।
চাঁপা (Champa): চাঁপা ফুলের সুবাস জগন্নাথ দেবের অত্যন্ত পছন্দ।
টগর ও শিউলি: পুজোর অঞ্জলি ও সাজসজ্জায় এই ফুলগুলির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
কদম্ব ও রজনীগন্ধা: কদম্ব ফুল শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় হওয়ায় জগন্নাথ পুজোতেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।পুরীর জগন্নাথ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মতে, তুলসী ছাড়াও ‘দয়া’ (Dayana) নামক এক ধরণের সুগন্ধী পাতা মহাপ্রভুর পুজোয় বিশেষভাবে লাগে। এছাড়া প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মহাপ্রভুকে সুগন্ধী ফুল ও তুলসী দিয়ে তৈরি বিশেষ ‘বনমালা’ পরানো হয়, যাকে ‘বনমালা বেশ’ বলা হয়।
