www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

May 18, 2026 12:30 pm

জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মা কালীকে ‘দেবী ফলহারিণী’ রূপে আরাধনা করেন। এই বিশেষ তিথিটিই শাস্ত্রে ‘ফলহারিণী অমাবস্যা’ নামে খ্যাত।

জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মা কালীকে ‘দেবী ফলহারিণী’ রূপে আরাধনা করেন। এই বিশেষ তিথিটিই শাস্ত্রে ‘ফলহারিণী অমাবস্যা’ নামে খ্যাত। ‘ফলহারিণী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল— যা অশুভ ফলকে হরণ বা দূর করে। অর্থাৎ, মানুষের জীবনের যাবতীয় অমঙ্গল ও কর্মের কুফল দূর করে শুভ ফল প্রদান করেন এই দেবী। আধ্যাত্মিক দিক থেকেও এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম; এই পুণ্য তিথিতেই শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব দক্ষিণেশ্বরে মা সারদা দেবীকে দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ‘ষোড়শী’ রূপে পুজো করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘ষোড়শী পুজো’ নামে খ্যাত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠাভরে এই পুজো করলে সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যায়। তবে দেবী ফলহারিণীর কৃপা পেতে পুজো করতে হবে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে। নিয়ম ভাঙলে হিতে বিপরীত হতে পারে। দেখে নিন এই পুজোর মূল নিয়মগুলো কী কী—

  • ফলের মালা ও মরসুমি ফল: এই পুজোয় হরেক রকমের মরসুমি ফল নিবেদন করা বাধ্যতামূলক। এই দিনে দেবীকে কেবল ফুলের মালা নয়, বরং বিভিন্ন ফল গেঁথে তৈরি করা বিশেষ ‘ফলের মালা’ দিয়ে সাজানোর চল রয়েছে।
  • মনোস্কামনা পূরণের বিশেষ ব্রত: নিজের মনের কোনও বিশেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য এই দিন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বা পছন্দের কোনও ফল মা কালীকে উৎসর্গ করুন। পুজো শেষে সেই ফলটি বাড়িতে এনে আলাদা করে রেখে দিতে হবে। আগামী এক বছর সেই ফলটি আপনি নিজে বা পরিবারের কেউ খেতে পারবেন না। এক বছরের মধ্যে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলে, ফলটি কোনও পবিত্র নদীর জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
  • পুণ্যস্নান: ফলহারিণী অমাবস্যার দিন গঙ্গাস্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। যদি গঙ্গার ঘাট কাছাকাছি না থাকে, তবে বাড়ির কাছের কোনও পুকুর বা জলাশয়ে ডুব দিয়ে স্নান করতে হবে। এমনকি বাড়ির স্নানের জলেও সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করা যেতে পারে।
  • মৌনব্রত পালন: এই তিথিতে অনেক ভক্তই ‘মৌনব্রত’ বা কথা না বলার সংকল্প নেন। এই ব্রত করলে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ম মানা জরুরি। স্নান করার পর থেকে শুরু করে পুজোর শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হবে, কোনও অবস্থাতেই কথা বলা যাবে না।
  • দান -ধ্যানের মহিমা: পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর দীন-দরিদ্র ও দুস্থ মানুষদের প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দান করা উচিত। এতে দেবী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের পড়াশোনার সামগ্রী (বই, খাতা, পেন) দান করলে সংসারে উন্নতি হয়।
  • অশ্বত্থ গাছের পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডন: ফলহারিণী অমাবস্যায় অশ্বত্থ গাছের পুজো করলে কোষ্ঠীর একাধিক গ্রহদোষ কেটে যায় বলে বিশ্বাস। বিশেষ করে কারও জন্মকুণ্ডলীতে যদি চন্দ্র বা মঙ্গলের দোষ থাকে, তবে এই দিন অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় কালো তিল, কাঁচা দুধ এবং গঙ্গাজল অর্পণ করলে গ্রহের কুপ্রভাব থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *