আজ, বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তী। আমাদের সমস্ত শক্তি, সাহস ও বিরুত্ব আমরা ভগবান হনুমানের কাছ থেকেই পাই। অশুভ শক্তির বিনাশ আর অন্তহীন সাহসের প্রতীক তিনি। চৈত্র পূর্ণিমার সেই পুণ্যলগ্নে পবনপুত্র হনুমানজীর আবির্ভাব তিথি ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবারের হনুমান জয়ন্তী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। জ্যোতিষীদের মতে, এই বিশেষ দিনে গ্রহ-নক্ষত্রের যে অবস্থান তৈরি হচ্ছে, তাতে বজরংবলীর আরাধনা করলে জাতক-জাতিকাদের কোষ্ঠী থেকে শনির দশা বা রাহুর কুপ্রভাব মুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৬-এর এই ডামাডোলের বাজারে মানসিক শান্তি আর শারীরিক বল পেতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, প্রতিটি মন্দিরেই এখন সাজ সাজ রব।
যদিও ২০২৬ সালে হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে ১ এপ্রিল, বুধবার। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই পূর্ণিমা তিথিটি অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই পূর্ণিমা শুরু হয়ে যাচ্ছে, যা বুধবার সারা দিন থাকবে। বিশেষ করে যারা শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়ার কবলে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিনটি এক সুবর্ণ সুযোগ। ভক্তদের বিশ্বাস, শুদ্ধ চিত্তে বজরংবলীর শরণাপন্ন হলে জীবনের সব বাধা এক লহমায় কেটে যায়। এই দিনে ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে লাল বা হলুদ বস্ত্র পরিধান করা অত্যন্ত শুভ। হনুমানজীর মূর্তিতে সিঁদুর ও চামেলি তেলের প্রলেপ লাগানো হয়। প্রসাদ হিসেবে লাড্ডু ও তুলসী দল নিবেদন করা আবশ্যিক। তবে সবথেকে বড় ফল মেলে যদি এই দিন নিষ্ঠাভরে ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করা যায়। বলা হয়, যারা ভক্তিভরে চালিশা পাঠ করেন, তাঁদের ওপর স্বয়ং মহাদেব ও শ্রীরামচন্দ্রের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। ২০০৬-এর এই ব্যস্ত সময়ে আধ্যাত্মিক চেতনার এই জাগরণ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
