‘প্রভুপদ’ সম্মানটি মূলত ধর্ম, সমাজ ও শিক্ষার মিলনে দেওয়া হয়। ধর্ম, সমাজ ও শিক্ষার জন্য যাদের অসামান্য অবদান থাকে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। কর্মই ধর্ম। আর সেই কর্মের মাধ্যমেই শিক্ষার আঙিনায় অনন্য নজির গড়লেন স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষা ড. মধুমঞ্জরি মণ্ডল। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা ও প্রশাসনিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে প্রদান করা হল মর্যাদাপূর্ণ ‘এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। কলকাতার ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই বিরল সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর হাতে। স্কটিশ চার্চ কলেজ চত্বরেই বসেছিল এই বিশেষ পুরস্কার প্রদানের আসর। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি অধ্যক্ষার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন (অ্যাকাডেমিক্স) তথা ট্রাস্টি ড. সুমন্ত রুদ্র। উপস্থিত বিশিষ্টদের মতে, ড. মণ্ডলের দূরদর্শী নেতৃত্বে স্কটিশ চার্চ কলেজ গত কয়েক বছরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে।
তাঁর হাত ধরেই এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনএএসি (NAAC) মূল্যায়নে ‘এ’ গ্রেড লাভ করেছে। এমনকী দু’বার এনআইআরএফ (NIRF) ক্রমতালিকায় দেশের সেরা একশোটি কলেজের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে উত্তর কলকাতার এই কলেজ। অধ্যক্ষার দায়িত্বভার সামলানোর পাশাপাশি কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর বিশেষ উদ্যোগ নজর কেড়েছে সকলের। তাঁর আমলেই ওগিলভি হোস্টেলের সংস্কার করে তাকে আধুনিক একাডেমিক ভবনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এন্টারপ্রেনারশিপ সেল, উদ্ভাবন কেন্দ্র এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। কেবল দেশীয় স্তরে নয়, তাঁর উদ্যোগে ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও নিবিড় একাডেমিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
