www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

June 19, 2024 3:07 pm

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, বৈশাখ শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথি ২১ মে বিকেল ০৫ টা ৩৯ মিনিটে শুরু হবে এবং পরের দিন অর্থাৎ ২২ মে ২০২৪ সন্ধ্যা ০৬ টা ৪৭ মিনিটে শেষ হবে। নরসিংহ জয়ন্তীতে সন্ধ্যায় ভগবান নরসিংহের পুজো করা হয়। এদিন বিকেল ৪টে ২৪ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭ টা ০৯ মিনিটের মধ্যে পুজো করা যাবে।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রক্ষক ভগবান বিষ্ণু অধর্মের বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য বহু অবতার গ্রহণ করেছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর ১২ টি অবতারের মধ্যে নরসিংহ হলেন ষষ্ঠ অবতার। ভগবান নরসিংহ শক্তি ও পরাক্রমের দেবতা। যারা অধর্ম ও অত্যাচার করে তাদেরকে ভগবান নরসিংহ কঠিন শাস্তি দেন। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুসারে বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করার জন্য ভগবান বিষ্ণু অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক সিংহের দেহ ধারণ করেন এবং রাক্ষস রাজা হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন। তাই এই দিনে নরসিংহ জয়ন্তী পালিত হয়। 

বিষ্ণুপুরাণ (Bishnu Puran) অনুযায়ী, ঋষি কশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী দীতির দুই সন্তান ছিল। তাঁরা হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষ। দুই ভাই ভগবান ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেন। ব্রহ্মার অভয়ও লাভ করেন তাঁরা। দুই ভাইকে কোনও সুর বা অসুর, অস্ত্র, রাতে অথবা দিনে, মাটি অথবা শূন্যে হত্যা করতে পারবেন না বলে সৃষ্টিকর্তা বর দেন। এই বর পেয়েই অত্যাচারী হয়ে ওঠেন দুই ভাই। হিরণ্যকশিপুর সন্তান প্রহ্লাদ বিষ্ণুভক্ত হওয়ায় তাঁকেও হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিষ্ণু বরাহ অবতার ধারণ করে হত্যা করেন হিরণ্যাক্ষকে। এর পর নরসিংহ অবতারে আবির্ভূত হয়ে হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করেন বিষ্ণু। রক্ষা পায় জীবকুল। সেই থেকে পালন করা হয় নৃসিংহ চতুর্দশী বা নরসিংহ জয়ন্তী।

এবছর কবে পড়েছে নৃসিংহ চতুর্দশী ?
বাংলা তথা দেশের হিন্দুদের কাছে নরসিংহ জয়ন্তী (Narasimha Jayanti) পবিত্র তিথি। বৈশাখ মাসে শুক্লপক্ষের বৈশাখী চতুর্দশীতে পালন করা হয় নরসিংহ জয়ন্তী বা নৃসিংহ চতুর্দশী। কিন্তু চলতি বছরের বৈশাখ মাস নয় জৈষ্ঠ্য মাসে পালন করা হবে এই জয়ন্তী। ২২ মে পালন করা হবে নৃসিংহ চতুর্দশী। ২১ মে সন্ধ্যা ৫টা বেজে ৩০ মিনিটে চতুর্দশী লাগবে। চতুর্দশী শেষ হবে ২২ মে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৫৬ মিনিটে।

কেন নরসিংহ জয়ন্তী পালন করা উচিত?
হিন্দু শাস্ত্রমতে, নরসিংহ জয়ন্তীর দিন উপবাস করলে জীবনের জটিলতা, সমস্যা, দূর হয়ে সফলতার দেখা পাওয়া যায়। বিভিন্ন অচলাবস্থা কেটে জীবনে শান্তি ফিরে আসে। সঙ্গে দেবী লক্ষ্মীরও পুজো করেন অনেকে। নৃসিংহ দেবের আশীর্বাদে সব বাধা বিপদ কাটিয়ে জীবনকে আরও বেশি সুন্দর ও সহজ করে তোলা যায়।

নরসিংহ জয়ন্তীর মূল উদ্দেশ্য:
হিংসা থেকে বিশ্ব সংসারকে মুক্ত করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চতুর্থ অবতারে এসেছিলেন বিষ্ণু। এই চতুর্দশীতে সূর্যাস্তের সময় তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, সেই কারণে এই সময়ে বিশেষভাবে পুজো-অর্চনা করা হয়। যার ফলে অধর্মকে দূরে রেখে ধর্মের পথে চলা সম্ভব হয়ে ওঠে। অন্য কারও ক্ষতি না করাই হল নরসিংহ জয়ন্তীর মূল উদ্দেশ্য।

ঋষি কাশ্যপের দুই পুত্রের একজনের নাম ছিল হিরণ্যকশ্যপ। তিনি কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করেছিলেন এবং বর পেয়েছিলেন যে দেবতা, দেবী, পুরুষ, নারী, অসুর, যক্ষ বা অন্য কোন প্রাণী তাকে হত্যা করতে পারবে না, না দিনে, না রাতে, না বিকেলে, না ঘরে, না বাইরে, না আকাশে, না পাতালে, না অস্ত্র দিয়ে। এই বর পেয়ে তিনি নিজেকে ভগবান মনে করতে শুরু করলেন।হিরণ্যকশ্যপ তাঁর প্রজাদের তাঁর পুজো করতে বাধ্য করতে শুরু করেন, যারা তাঁর পুজো করত না, তিনি তাদের নানাভাবে নির্যাতন করতেন। তিনি ভগবান বিষ্ণুর ভক্তদের উপর ক্রুদ্ধ হতেন। হিরণ্যকশ্যপের একটি পুত্র ছিল, যার নাম ছিল প্রহ্লাদ। তিনি ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

হিরণ্যকশ্যপ বিষয়টি জানতে পেরে প্রহ্লাদকে বুঝিয়ে বললেন। তিনি তার ছেলেকে বলেছিলেন যে তার পিতা হলেন ঈশ্বর, তাকেই পুজো করা উচিত। কিন্তু প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর প্রতি তাঁর ভক্তি ত্যাগ করেননি।হিরণ্যকশ্যপ এটাকে অপমান মনে করে প্রহ্লাদকে হত্যা করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন বহুবার, কিন্তু শ্রীহরি বিষ্ণুর কৃপায় তিনি রক্ষা পান বারবার। অবশেষে হিরণ্যকশ্যপ তার বোন হোলিকাকে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে বসতে রাজি করান। হোলিকার আশীর্বাদ ছিল যে আগুনে তার কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু হোলিকা যখন প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে বসলেন, তখন শ্রীহরির কৃপায় তিনি নিজেই সেই আগুনে পুড়ে গেলেন এবং প্রহ্লাদ রক্ষা পেলেন।

অবশেষে ক্ষিপ্ত হয়ে হিরণ্যকশ্যপ তার ছেলে প্রহ্লাদকে একটি স্তম্ভের সাথে বেঁধে তাকে হত্যা করার জন্য তার তলোয়ার বের করে বললেন, বল তোমার ভগবান কোথায়, প্রহ্লাদ বললেন ভগবান ঠিক এই স্তম্ভে, যেখানে তুমি আমাকে বেঁধে রেখেছ। হিরণ্যকশ্যপ প্রহ্লাদকে বধ করতে চাইলেই ভগবান বিষ্ণু অবতার হয়ে নরসিংহ স্তম্ভ থেকে বেরিয়ে এসে হিরণ্যকশ্যপকে হত্যা করেন।

এই দিনে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করুন। পুজোর স্থানে একটি চৌকির উপর একটি লাল, সাদা বা হলুদ কাপড় রাখুন এবং তাতে ভগবান নরসিংহ ও মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন। ভগবান নরসিংহের পুজোয় পঞ্চামৃত, ফল, ফুল, কেসর, নারকেল, গোটা চাল এবং পীতাম্বর ব্যবহার করুন। ভগবান নরসিংহ দেবের মন্ত্র জপ করুন ও অসহায়দের শীতল জিনিস দান করুন।

শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ভগবান বিষ্ণুর নরসিংহ অবতারের পুজো করতে হবে। পদ্মপুরাণ অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর এই উগ্র রূপের পুজো করলে পাপ দূর হয় এবং কষ্টও দূর হয়।

শ্রী বিষ্ণু যেভাবে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন, তেমনি যে কোনও ধরনের সংকটের সময় ভগবান নরসিংহকে স্মরণ করলে ভক্তরা তাৎক্ষণিক সংকট থেকে মুক্তি পান। নরসিংহ জয়ন্তীর দিনে যে ভক্তরা ভগবান নরসিংহের পুজো করেন তারা শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। আদালত সংক্রান্ত বিষয়ে জয় লাভ করেন।

ভগবান নরসিংহের উপাসনা মনোবল বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, নেতিবাচকতা দূর করে এবং সাহস, গতি ও শক্তি দেয়।

নরসিংহ জয়ন্তীর পুজো পদ্ধতি

নরসিংহ জয়ন্তীর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠুন, স্নান করুন এবং পরিষ্কার কাপড় পরিধান করুন।

তারপর ভগবান সূর্যকে জল নিবেদন করুন।

মন্দির পরিষ্কার করুন এবং গঙ্গা জল ছিটিয়ে পবিত্র করুন।

এখন ভগবান নরসিংহর মূর্তি একটি চৌকিতে রাখুন এবং উপবাসের সংকল্প নিন।

ভগবানকে মিষ্টি, ফল, জাফরান, ফুল এবং কুমকুম নিবেদন করুন।

একটি ঘি এর প্রদীপ জ্বালান এবং আরতি ও মন্ত্র জপ করুন।

শেষে, বিশেষ জিনিস নিবেদন করুন এবং লোকেদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করুন।

আপনার ভক্তি অনুসারে গরীবদের অন্ন ও বস্ত্র দান করুন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *