www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

February 22, 2024 2:23 pm
শ্রাবণ অমাবস্যা (Amabosya)

খবরে আমরাঃ আর কয়েকদিন পরেই অম্বুবাচী। কিন্তু জানেন কি চলতি বছরে অম্বুবাচী কবে। জানেন কি এই দিনগুলির মাহাত্ম। আমরা হিন্দুরা কেন এই দিনটিগুলি মানি। সব প্রশ্নের উত্তর রইল আপনাদের জন্য। দেখে নিন কী করবেন আর করবেন না এই সময়ে।

 

ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকতা এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের ৭ তারিখে অম্বুবাচী পালিত হয়। শাস্ত্র মতে, সূর্য যে বারে ও যে সময়ে মিথুন রাশিতে গোচর করে, তার পরের সেই বারেই পালিত হয় অম্বুবাচী। মাত্র দুদিন পর অম্বুবাচী। ইংরেজি ২২ জুন তারিখে অম্বুবাচী পালিত হবে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটিই ৭ই আষাঢ়। প্রতি বছর সূর্য আদ্রা নক্ষত্রের প্রথম পর্যায়ে অবস্থান কালে, মিথুন রাশির ৬ ডিগ্রি ৪০ মিনিট থেকে ১০ ডিগ্রি পর্যন্ত সময় ধরিত্রী ঋতুমতী হন। এটিই অম্বুবাচী নামে পরিচিত।

 

আষাঢ় মাসের মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পর্যায় শেষ হলে ধরিত্রী ঋতুমতী হন। ধরিত্রীর ঋতুমতী থাকার সময়কাল তিন দিনের। এ সময় কোনও শুভ অনুষ্ঠান করা হয় না। অম্বুবাচীতে হাল ধরা, গৃহপ্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি শুভ কাজ নিষিদ্ধ। এমনকি এ সময় কোনও মন্দিরেও প্রবেশ করা যায় না।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ধরিত্রী ঋতুমতী হন বলেই শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। তাই অম্বুবাচীর সময়ে হাল ধরা নিষিদ্ধ। আষাঢ় মাসের এই সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। যার ফলে ধরিত্রী উর্বর হয় ও শস্য-শ্যামলা হতে পারে। কৃষিভিত্তিক ভারতীয় সমাজ গুরুত্ব সহকারে হাল না-ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন।

 

অম্বুবাচীর দিনক্ষণ

কথিত আছে, ‘কিসের বার, কিসের তিথি, আষাঢ়ের ৭ তারিখ অম্বুবাচী।’ সেই অনুযায়ী ১৪২৯ বঙ্গাব্দের ৭ আষাঢ়, ইংরেজি ২২ জুন অম্বুবাতী। রাত ৮টা ১৯ মিনিটে অম্বুবাচী শুরু। আবার রবিবার ১১ আষাঢ় অর্থাৎ ইংরেজি ২৬ জুন সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে অম্বুবাচী সমাপ্ত।

 

কামাখ্যা মন্দির

আসামের কামাখ্যা মন্দির ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম। এখানেই সতীর গর্ভ ও যোনি পড়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। কামাখ্যা মন্দিরে সাড়ম্বরে এই উৎসব পালিত হয়। ২২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত কামাখ্যা দেবীর গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকবে। তার পর স্নান ও পুজো শেষে চতুর্থ দিনে ভক্তদের দর্শনের জন্য দ্বার খোলা হয়। ২৫ ও ২৬ জুন কামাখ্যা দেবীর দর্শন পাবেন ভক্তরা। এ সময় এখানে মেলা আয়োজিত হয়। আগামী ২২ জুন থেকে ২৬ জুন অম্বুবাচী উৎসব পালিত হবে। শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর সময় বিশেষ কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলা উচিত।

 

 

অম্বুবাচীতে কী করবেন

১. এ সময় দেবী মূর্তি বা পট লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত।

২. অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পর দেবীর আসন পাল্টে, স্নান করিয়ে পুজো দেওয়া উচিত।

৩. এ সময় গুরুপুজো করা উচিত বলে মনে করা হয়।

৪. অম্বুবাচীতে তুলসীর গাছের গোড়া মাটি দিয়ে উঁচু করে রাখুন।

অম্বুবাচীতে যে কাজ ভুলেও করবেন না

১. বৃক্ষ রোপণ, কৃষি কাজে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবার শুভ কাজ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

২. মন্ত্রোচ্চারণ ছাড়াই পুজো করুন। ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো করতে হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *