হিন্দু ধর্মে ‘রুদ্রাক্ষ’ খুবই উপকারী ও একটি পবিত্র ফল। বিশ্বাস করা হয় স্বর্গও মহাদেবের চোখের জল থেকেই এই রুদ্রাক্ষর জন্ম। বাজারে নানারকম রুদ্রাক্ষ পাওয়া গেলেও পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ সবথেকে সুলভ এবং প্রভাবশালী। জ্যোতিষশাস্ত্রে অনুযায়ী এই বিশেষ রুদ্রাক্ষ দুই রাশির জাতকদের জীবনে ম্যাজিকের মতো বদল আনতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই রুদ্রাক্ষ সবার জন্য সমান ফলদায়ক নয়। দেবগুরু বৃহস্পতির আশীর্বাদ পেতে গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এটি ধারণ করা জরুরি। কোন দুই রাশির ভাগ্য ফিরবে? পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষের অধিপতি গ্রহ হল বৃহস্পতি। তাই যেসব রাশির উপরে বৃহস্পতির আধিপত্য বেশি, তাঁদের জন্যই এই রুদ্রাক্ষ কার্যকরী।
- ধনু রাশি: ধনু রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। আপনার রাশির অধিপতি যেহেতু বৃহস্পতি, তাই পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে কর্মজীবনে অভাবনীয় উন্নতি যোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রমোশন বা ব্যবসায়িক চুক্তি এই ৭ দিনের মধ্যেই সই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এটি কেবল আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে না, বরং পরিবারের সঙ্গে চলা দীর্ঘদিনের কলহ মিটিয়ে মনে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
- মীন রাশি: মীন রাশির জাতকদের জন্য এই রুদ্রাক্ষ ‘লাকি চার্ম’। আর্থিক সংকটে ভুগলে বা ঋণের দায়ে জর্জরিত থাকলে পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ আপনাকে পথ দেখাতে পারে। বৃহস্পতির কৃপায় আপনার বুদ্ধি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে আপনার উপার্জনে। মানসিকভাবে আপনি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবেন এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
- ধারণের আসল নিয়ম: ভুল করলেই বিপদ! রুদ্রাক্ষ পরলেই ফল পাওয়া যায় না, যদি না আপনি নিয়ম মানেন।বৃহস্পতিবার সকালে স্নান সেরে গঙ্গাজল বা কাঁচা দুধ দিয়ে রুদ্রাক্ষটি ধুয়ে নিন।ধারণের আগে ১০৮ বার ‘ওঁ গ্রাঁ গ্রীঁ গ্রৌঁ সঃ গুরুবে নমঃ’ অথবা ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি জপ করুন। এতে রুদ্রাক্ষের অন্তর্নিহিত শক্তি জাগ্রত হয়।রুদ্রাক্ষ ধারণ করার পর আমিষ আহার এবং মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। অশুচি অবস্থায় বা রাতে ঘুমানোর সময় এটি খুলে রাখা উচিত।
