মুসলিম ধর্মের একাধিক ধৰ্মীয় উৎসবের মধ্যে খুবই পবিত্র উৎসব হলো ইদ-উল-ফিতর।
মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে সবচেয়ে পবিত্র মাস হল রমজান। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের নবম মাস এটি। রমজান মাসে মুসলিমরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা বা উপবাস রাখেন। ২৯-৩০ দিন পর্যন্ত চলে রমজান মাস। এর চাঁদ দেখার পর উপবাস ভঙ্গ করে পালিত হয় ইদ-উল-ফিতর। যা খুশির ইদ নামেও পরিচিত। তবে ইদের তারিখ নিয়ে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। আমেরিকা এবং পশ্চিমী দুনিয়ার অধিকাংশ দেশ পূর্বের দেশগুলির মধ্যে ইদের দিনক্ষণের ফারাক থাকে। চাঁদ ওঠার সময় নিয়ে দ্বিমত রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে। শীতের শেষ লগ্নে এ বছর পালিত হচ্ছে রমজান। তারপরই উদযাপন হবে খুশির ইদের। জানা যাচ্ছে, এবার থেকে ক্রমশ এগিয়ে আসবে রমজানের সময়। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে ইদ-উল-ফিতর সাবান মাসের প্রথম তারিখে পালিত হয়। যেখানে গোটা দুনিয়া সাধারণ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩৬৫ দিনে এক বছরের হিসেব করে। সেখানে মুসলিমরা ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩৫৪ দিনে এক বছর হিসেব করে। এই কারণেই মুসলিমদের এই উৎসব নতুন বছর ইংরেডি ক্যালেন্ডারের হিসেবে ১১ দিন আগেই চলে আসে। রমজান হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাসে পড়ে। তারপরই আসে সাবান মাস।
২০২৬ সালে রমজানের শুরু বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি। রমজান মাসে ২৯ অথবা ৩০ দিন হবে। এর মধ্যে মুসলিমরা রোজা রাখবেন। মাসের একদম শেষ দিন চাঁদ দেখার অপেক্ষা করবেন। রমজান ৩০ দিনে হলে শেষ দিন চাঁদ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ১৯ মার্চ ইদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে। তবে কোনও কারণে সেদিন পবিত্র চাঁদ দেখা না গেলে ইদ পালিত হবে ২০ মার্চ। সব দেশে একইদিনে ইদ উদযাপিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত বিভিন্ন দেশে এক বা দুই দিনের ব্যবধানে ইদ পালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরবে ইসলাম ধর্মীয় নেতারা নতুন চাঁদ দেখার পর রমজানের শুরু এবং শেষ ঘোষণা করেন। চাঁদ দেখা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মসজিদে ঘোষণা করা হয় এবং সেই তারিখের ভিত্তিতে ইদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অতএব,স্থানীয় মসজিদ বা চাঁদ কমিটি কর্তৃক ইদের চূড়ান্ত এবং নিশ্চিত তারিখ ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেন মুসলিমরা।
