www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

June 24, 2024 2:52 am
ganesha

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে গজাননের বিশেষ পুজো পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। অনেকের বিশ্বাস, বছরের এই বিশেষ দিনে গণেশ তাঁর ভক্তদের সমস্ত মনোস্কামনা পূরণ করেন। ভক্তদের আরাধনায় মর্ত্যে অবতীর্ণ হন। আর সেই বিশ্বাস থেকেই হয় গণেশ পুজো।

গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi) । সারা ভারত জুড়ে পার্বতী নন্দনকে বন্দনার দিন। মহাদেবের (Lord Shiva) আশীর্বাদে যে কোনও পুজোর সূচনাই গণেশ পুজোর মাধ্যমে হয়। শারদোৎসবের (Durga Puja) বাদ্যিও বাজে গণেশ পুজোর (Ganesh Puja) মাধ্যমে। সেভাবে দেখতে গেলে, পুজোর মরসুমই শুরু হয় গণপতি বন্দনা দিয়ে। কুমোরটুলি জুড়ে সাজো সাজো রব পড়ে যায় এই গণেশ পুজো থেকেই। 

পঞ্জিকা অনুসারে, এবার ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে গণেশ চতুর্থী পালন হবে।  অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত পালিত হবে এই উৎসব। গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়ি ও মণ্ডপে ঋদ্ধি সিদ্ধির দাতা গণপতির পুজো করা হয়।  মনে করা হয়,  এই দশ দিন কৈলাস থেকে পৃথিবীতে ভক্তদের হাজির থাকেন বিঘ্নহর্তী গণেশ। তিনি ভক্তদের সমস্ত সমস্যা দূর করেন।  আসুন জেনে নিই এই বছর গণেশ-উৎসব কবে থেকে শুরু হবে। গণেশ চতুর্থীতে গণপতি স্থাপনের শুভ সময় ও গুরুত্বও জেনে নেওয়া যাক। 

পঞ্জিকা অনুসারে, এই বছর গণেশ উৎসব ১৯ সেপ্টেম্বর  থেকে শুরু হবে। চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এদিন  অনন্ত চতুর্থীতে (Ganesh Chaturthi) শেষ হবে পুজো। উৎসবের শেষ দিনে গণপতি বাপ্পার প্রতিমা বিসর্জন হবে। 

গণেশ পূজার মন্ত্র পাঠ
ধ্যান মন্ত্র:

ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দম্মদগন্ধলুব্ধ মধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাত বিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দুরশোভাকরং,
বন্দেশৈল সুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।

গণেশ বন্দনা:

বন্দ দেব গজানন বিঘ্ন বিনাশন।
নমঃ প্রভু মহাকায় মহেশ নন্দন।।
সর্ববিঘ্ন নাশ হয় তোমার শরণে।
অগ্রেতে তোমার পূজা করিনু যতনে।।
নমো নমো লম্বোদর নমঃ গণপতি।
মাতা যার আদ্যাশক্তি দেবী ভগবতী।।
সর্বদেব গণনায় অগ্রে যার স্থান।
বিধি-বিষ্ণু মহেশ্বর আর দেবগণ।।
ত্রিনয়নী তারার বন্দিনু শ্রীচরণ।
বেদমাতা সরস্বতীর লইনু শরণ।।
মন্ত্রঃ – ওঁ গাং গণেশায় নমঃ।

গণেশ পূজার মন্ত্র বাংলা
Ganesh Puja Mantra In Bengali (গণেশ পূজা)

ধ্যান মন্ত্র:

ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং প্রস্যন্দম্মদগন্ধলুব্ধ মধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্। দন্তাঘাত বিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দুরশোভাকরং , বন্দেশৈল সুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।

মন্ত্র: ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ বা ‘ওঁ গাং গণেশায় নমঃ

অর্থাৎ, যিনি খর্বাকৃতি, স্থূল শরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমর সমূহের দ্বারা যাঁর গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাঁর দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।

মনে রাখবেন, ধর্মীয় মতে এই মন্ত্রটি দিনে কম করে ১০৮ বার পাঠ করলে ফল মিলতে বাধ্য। ফিরবে ভাগ্য। বদলে যাবে জীবন। যাঁরা এই সময় খুব দুঃখের মধ্যে আছেন, তাঁরা আজ থেকেই এই মন্ত্রটি পাঠ করা শুরু করে দিন। কে বলতে পারে, হয়ত সুখ আর কয়েক দিনের মধ্যেই দরজায় কড়া নাড়বে। মন্ত্রটি হল- ‘ওম সৌভাগ্য-বর্ধনাহাহ নমহঃ।’ প্রসঙ্গত, মন্ত্রটি পাঠ করার সময় মনে কোনও খারাপ চিন্তা আনবেন না। তা হলেই সুফল মিলতে শুরু করবে।

ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং গনপতিং বিদ্যুদ্বর্ণং গজাননং ।
শ্বেতাম্বরং সিতাব্জস্থং স্বর্ণমুকুট শোভিতম্ ।।
শ্বেতমূষিক পৃষ্ঠন্যস্তবামচরনং সিদ্ধিদং ।
বামজান্বারোপিতদক্ষিনপদং চতুর্ভুজম্ ।।

অর্থাৎ যিনি বিদ্যুৎবর্ণ, গজানন, শ্বেতবস্ত্র পরিহিত, শ্বেতপদ্মে অবস্থিত, মাথায় স্বর্ণমুকুট শোভাস্থিত, যাঁর বামচরণ শ্বেতমূষিকের পৃষ্ঠে রাখা এবং বাম পা হাঁটুর ওপর অবস্থিত। যিনি সিদ্ধিদাতা ও চতুর্ভুজ, বাম দিকের দুই হাতে শঙ্খ ও চক্র, ডান দুই হাতে পুস্তক ও লেখনী ধারণকারী সই সিদ্ধিদাতা শ্রীগণেশকে আরাধনা করি।

অর্থাৎ, যিনি খর্বাকৃতি, স্থূল শরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমর সমূহের দ্বারা যাঁর গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাঁর দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।

মনে রাখবেন, ধর্মীয় মতে এই মন্ত্রটি দিনে কম করে ১০৮ বার পাঠ করলে ফল মিলতে বাধ্য। ফিরবে ভাগ্য। বদলে যাবে জীবন। যাঁরা এই সময় খুব দুঃখের মধ্যে আছেন, তাঁরা আজ থেকেই এই মন্ত্রটি পাঠ করা শুরু করে দিন। কে বলতে পারে, হয়ত সুখ আর কয়েক দিনের মধ্যেই দরজায় কড়া নাড়বে। মন্ত্রটি হল- ‘ওম সৌভাগ্য-বর্ধনাহাহ নমহঃ।’ প্রসঙ্গত, মন্ত্রটি পাঠ করার সময় মনে কোনও খারাপ চিন্তা আনবেন না। তা হলেই সুফল মিলতে শুরু করবে।

ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং গনপতিং বিদ্যুদ্বর্ণং গজাননং ।
শ্বেতাম্বরং সিতাব্জস্থং স্বর্ণমুকুট শোভিতম্ ।।
শ্বেতমূষিক পৃষ্ঠন্যস্তবামচরনং সিদ্ধিদং ।
বামজান্বারোপিতদক্ষিনপদং চতুর্ভুজম্ ।।

প্রণাম মন্ত্র:

একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।
বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।

অর্থাৎ,যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।

ওঁ সর্ববিঘ্ন বিনাশয় সর্বকল্যাণ হেতবে।
পার্বতী প্রিয় পুত্রায় গণেশায় নমো নমঃ।।

গণেশ চতুর্থীর দিনক্ষণ

তিথিসময়
ভাদ্র শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি শুরু১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ দুপুর ২টো ৯ মিনিটে
ভাদ্র শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি সমাপ্ত১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ দুপুর ৩টে ১৩ মিনিটে
কোন দিন গণেশ পুজো?উদয়া তিথি মেনে ১৯ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী পালিত হবে
গণেশ প্রতিষ্ঠার শুভক্ষণগণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠার শুভক্ষণ ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৭ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বাড়িতে গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

গণেশ প্রতিষ্ঠার নিয়ম

  • গণেশ চতুর্থীর সকালে স্নান করে স্বচ্ছ পোশাক পরে নিন।
  • এর পর কপালে তিলক কেটে নিন। তার পর আসন বিছিয়ে পূর্ব দিকে মুখ করে বসে যান। আসন যাতে ছেঁড়া না-হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
  • কাঠের চৌকি বা গম, মুগ ও জোয়ারের ওপর লাল কাপড় বিছিয়ে গণেশ মূর্তি স্থাপন করুন।
  • এবার গণেশের ডান ও বাঁ দিকে ঋদ্ধি-সিদ্ধির প্রতীক হিসেবে একটি করে সুপুরি রেখে দিন।

গণেশ চতুর্থীর পুজোর নিয়ম

  • গণেশ চতুর্থীর সকালে বাড়ির উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিকে গণেশ প্রতিমা স্থাপিত করুন।
  • তার পর পুজোর সামগ্রী নিয়ে আসনে বসুন।
  • গণেশ স্থাপনার পর নবগ্রহ, ষোড়শ মাতৃকা ইত্যাদি তৈরি করুন।
  • চৌকীর পূর্ব দিকে ঘট রাখুন ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক প্রদীপ জ্বালান।
  • তার পর নিজের ওপর জল ছিটিয়ে ওম পুণ্ডরীকাক্ষায় নমঃ মন্ত্র জপ করতে করতে গণেশকে প্রণাম করুন ও তিন বার মাথা থেকে জল ছিটিয়ে তিলক লাগান।
  • হাতে সুগন্ধ, ফুল ও অক্ষত নিন। তার পর গণেশের ধ্যান করুন।
  • উপরিউক্ত মন্ত্র জপ করতে করতে গণেশের আবাহন ও আসন প্রদান করুন।
  • পুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওম শ্রীগণেশায় নমঃ বা ওম গং গণপতয়ে নমঃ মন্ত্র জপ করে যান।
  • আসন প্রদানের পর গণেশকে স্নান করান। এ ক্ষেত্রে পঞ্চামৃত স্নান করানো ভালো। সম্ভব না-হলে শুদ্ধ জল দিয়েও স্নান করাতে পারেন।
  • এর পর বস্ত্র, উপবীত, চন্দন, অক্ষত, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, ফল ইত্যাদি নিবেদন করুন।
  • শেষে গণেশের আরতি করে নিজের মনস্কামনা ব্যক্ত করবেন।

(collected)

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *