www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

June 18, 2026 11:57 pm

নিষ্কাম কর্ম গীতার প্রধান উপদেশ। মনে করা হয়, কোনও ব্যক্তি এক মুহূর্তের জন্যও কোনও কাজ না-করে থাকতে পারে না। কর্ম করা ব্যক্তির অধিকার ও কর্তব্য দুইই।

নিষ্কাম কর্ম গীতার প্রধান উপদেশ। মনে করা হয়, কোনও ব্যক্তি এক মুহূর্তের জন্যও কোনও কাজ না-করে থাকতে পারে না। কর্ম করা ব্যক্তির অধিকার ও কর্তব্য দুইই। ব্যক্তিকে কর্ম করে যাওয়া উচিত। তবে গীতায় কর্মের প্রতি মমতা ও আসক্তির বিরোধ করা হয়েছে। এখানে যে বিচার প্রচার করা হয়, তা হল—‘কর্ম করাই তোমার অধিকার, ফলাফলে না, তাই তুমি কর্মফলের বাসনা রেখো না এবং কর্ম ত্যাগ করার বিচার কর না।’ তাই আদেশ দেওয়া হয়েছে যে— ‘মা কর্মফল হেতুর্ভূ’, অর্থাৎ কর্মফলের প্রত্যাশা কর না। কর্মফলের বাসনায় যুক্ত থেকো না, কারণ ‘ফলেসক্তো নিবধ্যতে’ অর্থাৎ ফলের আসক্তির ফলে কর্মবন্ধন দৃঢ় হয়। তাই গীতায় ফলের ইচ্ছা ত্যাগ করে কর্ম করার শিক্ষা দেওয়া হয়। যাঁরা কর্মফলের ইচ্ছা রাখে, তাঁরা দয়ার পাত্র হয় (কৃপণঃ ফলহেতবঃ)।

কর্মফলের পরিণামের প্রতি লালসা বা কামনা থেকে বিষয়ের প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পায়। কামনার সিদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটলে রাগ উৎপন্ন হয়, রাগের ফলে মতিভ্রষ্ট হয়, অবিবেক জন্ম নেয়। অবিবেকের ফলে স্মৃতি নাশ হয়, ভালো ও মন্দ বিচারের ক্ষমতা চলে যায় এবং ব্যক্তি নিজের জন্য শ্রেষ্ঠ বস্তু নির্বাচন করতে পারে না। এই ভাবে ব্যক্তি কর্মবন্ধনে আটকে যেতে থাকে। কর্ম করার প্রক্রিয়া উদ্দেশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত, তা কামনা দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এবার প্রশ্ন হল, কর্মফলের ইচ্ছা ও কামনা ছাড়া কর্মের প্রবৃত্তি কেমন হবে? ফলের আশা না-করে ব্যক্তি কী ভাবে কর্ম করতে পারবে? বলা হয়েছে, কামনা পূরণের জন্যও কর্ম করা হয় আবার কামনার নিবৃত্তির জন্যও কর্ম করা হয়। সামান্য ব্যক্তি কামনা পূরণের জন্য কাজ করেন, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি আসক্তি ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধির জন্য কর্ম করেন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *