www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

February 21, 2024 7:41 pm
Bipadtarini Puja

রইল পুজো বিধি ও কাহিনী

হিন্দু ধর্মে বিপত্তারিণী (Bipadtarini Puja) ব্রতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাড়ির সবার মঙ্গল কামনায় হিন্দু বাড়ির মহিলারা এই পুজো নিষ্ঠাভরে করে থাকেন। যেকোনও বিপদ থেকে মুক্তি পেতে, মা বিপত্তারিণীর আরাধনা করার রীতি বহু যুগ ধরে প্রচলিত। সাধারণত আষাঢ় মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই পুজো হয়ে থাকে। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মাঝে যে মঙ্গলবার এবং শনিবার থাকে সাধারণত সেই সময় এই পুজো করা হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে, মা বিপত্তারিণী হল দেবী দুর্গার ১০৮টি অবতারের একটি রুপ। বিশ্বাস করা হয় যে, এই ব্রত পালন করলে সংসার বিপদ মুক্ত থাকে। মা বিপত্তারিণী সকল বিপদ থেকে দূরে রাখেন। এই ব্রতের বিশেষ কিছু নিয়ম থাকে, যা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়।

বিপত্তারিণী ব্রতর বিধি নিষেধ

১) বিপত্তারিণী পুজো চলাকালীন কারুর সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। তাহলে দেবী রাগান্বিত হতে পারেন, অর্থ সম্পর্কিত সমস্যা, ব্যবসায় ক্ষতি ও বাড়িতে অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

২) অপরিষ্কার বা অপরিচ্ছন্ন জায়গায় বিপত্তারিণী পুজো করবেন না, তাহলে বাড়ির সুখ-শান্তি নষ্ট হয়ে যায়।

৩) বিপত্তারিণী ব্রত পালনের জন্য ১৩টি ফল, ১৩টি ফুল, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ রকম নৈবেদ্যের প্রয়োজন

৪) বিপত্তারিণী ব্রতের লাল সুতোয় ১৩টি গিঁট এবং ১৩টি দুর্বা ঘাস বেঁধে দিতে হয়।

৫) পুজো শেষের পর খাদ্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও ১৩ রকমের খেতে হবে, যেমন – ১৩টা লুচি, ১৩ রকমের ফল, ইত্যাদি।

৬) যারা ব্রত পালন করবেন, তাদের এই দিন চালের কোনও খাবার (ভাত, চিড়ে, মুড়ি) খাওয়া যাবে না। বিবাহিত মহিলাদের আলতা, সিঁদুর অবশ্যই পরতে হবে।

৭) বাড়ির সকল সদস্যের নিরামিষ আহার গ্রহণ করা উচিত।

৮) পুজোর সময় কাউকে অপমান করবেন না এবং কোনও মহিলার সম্পর্কে খারাপ কথা বলবেন না। এতে দেবী ক্রুদ্ধ হন।

৯) এই দিন পরিবারের নিকট সদস্য ছাড়া, কোনও ব্যক্তিকে টাকা ধার দেবেন না এবং নিজেও নেবেন না। বিশ্বাস করা হয় যে, এই সময় প্রদত্ত অর্থ ফেরত আসে না।

 

 

পূজা বিধি

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের আগের দিন বা সেই দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়। পুজের দিন তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান ও তেরোটি সুপারি এবং তেরো গাছা লাল সুতোর মধ্যে তেরো গাছা দূর্বাঘাস সহযোগে তেরোটি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। এরপর, আম্রপল্লব দিয়ে ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা পূজা করতে হয়।

বিশ্বাস অনুযায়ী, বিপত্তারিণী ব্রত পালন করলে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং সমস্ত বিপদ, বাধা বিঘ্ন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বিপত্তারিণী ব্রতর কাহিনী

বিপত্তারিণী ব্রতর কাহিনী অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির একজন নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি ছিলেন জাতে মুচি এবং প্রায়ই গোমাংস খেতেন। রানি জানতে পেরে কৌতূহলী হয়ে তাঁকে গোমাংস দেখাতে বলেন। সেই মহিলা প্রথমে রানির এই প্রস্তাবে রাজি হননি, তবে পরে রানির আদেশ মেনে গোমাংস আনেন। রাজ অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করার খবর পেয়ে রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে চান। তখন রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের নীচে লুকিয়ে রেখে দেবী দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন।

রাজা রানিকে তল্লাশ করে দেখতে পান, রানির বস্ত্রের নীচে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা। সেই থেকেই বিপত্তারিণীর পুজো প্রচলিত হয় এবং চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *