ফিদেল কাস্ত্রোর সেই একফেলি চাঁদের মতো ছোট দেশ কিউবা। সেই দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ফিদেল কাস্ত্রো বিশ্ববিপ্লবের এক নাম। আবার হাজার হাজার কাস্ত্রোকে জন্ম নিতে হবে কিউবায়। আসল কথা আবার কি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়া পড়তে হবে কিউবাকে? পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিলেন বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো। অকুতোভয়ে কড়া হাতে মোকাবিলা করেছিলেন মার্কিন আগ্রাসনকে। শুধু মোকাবিলা নয়, তা ব্যর্থও করেছিলেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের পর কেটে গিয়েছে বহু দশক। চিরঘুমে চলে গিয়েছেন ‘কিউবার অবিভাবক’ ফিদেল। এই পরিস্থিতিতে ফের কিউবা দখলের নীলনকশা বানিয়েছে আমেরিকা! ভেনেজুয়েলার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ-সহ কিউবার উপরেও। রবিবার কিউবাকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে শীঘ্রই চুক্তি করতে হবে হাভানাকে। কথার অমান্য করলে পরিণতি হবে ভয়ংকর। পাশাপাশি, তিনি ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল আর কিউবাতে প্রবাহিত হবে না।
এমন দাদাগিরিতে চমকে উঠেছে গোটা পৃথিবী। বিশ্বে একজনকেও খুঁজে পাওয়া যায় নয় যিনি ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সোজা বলবে – ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়?’ তবে প্রতিবাদ দেখাচ্ছে কিউবা। সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল এবং অর্থের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। বিনিময়ে হাভানা ভেনেজুয়েলাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিষেবা দিত।’ তাঁর দাবি, গত সপ্তাহে আমেরিকার হামলায় বহু কিউবানের মৃত্যু হয়েছে। তারা ভেনেজুয়েলাকে পণবন্দি বানিয়ে রেখেছিল। এই সব দুষ্কৃতীদের নিকেশ করা হয়েছে।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পকের হুমকি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে কিউবা। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রডরিগেজ বলেন, “যে কোনও কিউবার দেশ থেকেই জ্বালানি আমদানি করার অধিকার কিউবার রয়েছে। আমেরিকার একতরফাভাবে বলপ্রয়োগ করার সংস্কৃতি আমরা মানব না।” কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল সমাজমাধ্যমে বলেন, “যারা সবকিছুকে ব্যবসায় পরিণত করে, এমনকী মানুষের জীবনকেও, তাদের কিউবার দিকে আঙুল তোলার কোনও নৈতিক অধিকার নেই। কারও হুমকিতে আমরা মাথা নত করব না”। ফলে প্রশ্ন উঠেছে,আবার কি কিউবা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধর মুখোমুখি হতে চলেছে?
