www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

August 22, 2026 12:43 pm

মদনমোহন মন্দির হল মেদিনীপুর বিভাগের বিষ্ণুপুর শহরের একটি কৃষ্ণ মন্দির।

মদনমোহন মন্দির হল মেদিনীপুর বিভাগের বিষ্ণুপুর শহরের একটি কৃষ্ণ মন্দির। অতীতে, এই মন্দিরে হিন্দু দেবতা কৃষ্ণকে মদনমোহন রূপে পূজার্চনা করা হলেও বর্তমানে কোনো পূজা করা হয় না। মন্দিরে প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠা ফলক অনুযায়ী, মন্দিরটি ১৬৯৪ খ্রীস্টাব্দে (১০০০ মল্লাব্দ) মল্লভূমের রাজা দুর্জন সিংহ দেব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মন্দিরটি একরত্ন মন্দিরের স্থাপত্যের একটি অনন্য উদাহরণ, যা মধ্যযুগীয় বাংলায় বিকশিত রত্ন শৈলীর অন্তর্গত। মন্দিরটির ছাদ চৌকো ও বাঁকানো, কিনারা বাঁকযুক্ত ও মধ্যে গম্বুজাকৃতি শীর্ষ বর্তমান। মন্দিরটি অলংকরণের জন্য অনেক বেশি পরিচিত, যা এই মন্দিরের দেয়ালগুলিকে অলঙ্কৃত করে। অলঙ্করণগুলি প্রধানত দেয়ালে স্থাপিত পোড়ামাটির ফলকের উপর স্থাপিত হয়েছে। মন্দিরের দেওয়ালে কৃষ্ণলীলা, দশাবতার ও অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনীর বিভিন্ন দৃশ্য ভাস্কর্যের মাধ্যমে রূপায়িত। মন্দিরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১২.২ মিটার এবং উচ্চতা ১০.৭ মিটার।

মল্লাধিপতি বীর হাম্বীর মল্লদেব মদনমোহন বিগ্রহ বিষ্ণুপুরে প্রতিষ্ঠা করেন।বিষ্ণুপুরের ৫৫ তম রাজা শ্রী গোপাল সিংহ ছিলেন মদনমোহনের একনিষ্ঠ ভক্ত। এসময় মারাাঠা দস্যুরা ভাস্কর পন্ডিতের নেতৃত্বে এক লক্ষ সেনা নিয়ে বিষ্ণুপুর আক্রমণ চেষ্টা করলে রাজা সমরসজ্জায় দৃষ্টি না দিয়ে প্রজাদের মদনমোহনের উপাসনা করার নির্দেশ দেন। কথিত আছে মদনমোহন নিজহস্তে কামানের তোপ বর্ষণ করে বিষ্ণুপুর কে রক্ষা করেন। যদিও ঐতিহাসিকেরা এই কিংবদন্তির সাথে সহমত নন তাদের মতে বিষ্ণুপুরের দুর্গ সেসময় অত্যন্ত দৃঢ় ছিল যা ভেদ করা মারাঠা দস্যু দের পক্ষে সম্ভব হয়নি।বিষ্ণুপুরের ৫৬তম রাজা চৈতন্যদেবের আমলে ব্রিটিশের চক্রান্তে বিশাল রাজস্ব দেনায় রাজা অষ্টধাতুর মদনমোহন বিগ্রহ বন্ধক রাখেন। এভাবে মদনমোহন বিগ্রহ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে বাগবাজার মদনমোহন মন্দিরে এই মূর্তি অধিষ্ঠান রত।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *