মানুষের ধৰ্মীয় রতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান তো পৃথক আছেই, আছে পুজোর উপলক্ষ ও প্রতিমা। বিশেষ করে প্রকৃতির কাছে যারা থাকেন, তারা প্রকৃতিকে ভালোবেসে, ভয়পেয়ে, শ্রদ্ধাকরে প্রকৃতিকে পুজো করেন। শুধু প্রকৃতি বললে ভুল হবে প্রকৃতির বিভিন্ন অংশকে মানেনা রূপে পুজো করেন। প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে এই পাহাড়ের পুজো করা হয় প্রতিবছর। বছরের আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার বেলপাহাড়ির কানাইসোর পাহাড় পুজো করা হয়। পুজোয় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এবারও ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় কানাইসোর পাহাড় পুজোয় সামিল হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ । প্রতি বছর আষাঢ়ের তৃতীয় শনিবার থেকে মাত্র তিন ধরে হয় মেলা। মেতে ওঠেন বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ। প্রসঙ্গত সবুজে ঘেরা জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামে এক প্রান্তে রয়েছে একাধিক ছোট বড় পাহাড়। সারা বছর যেমন ঘোরার এক অন্যতম ডেস্টিনেশন এই পাহাড় তেমনি বছরের নির্দিষ্ট দিনে পাহাড় পুজোতেও হাজার হাজার পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের ভিড় লেগে থাকে।
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় গাড়রাসিনি, খড়িডুংরি সহ যে সমস্ত পাহাড় পুজো অনুষ্ঠিত হয় তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাহাড় পুজো হল এই কানাইসোর পাহাড় পুজো। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কানাইসোর পাহাড় পুজো অনেক প্রাচীন। মূলত এখানকার আদি বাসিন্দারা চাষবাসের আগে প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে এই পাহাড়ের পুজো করে থাকেন। লোকবিশ্বাস মতে এই পাহাড় পুজো করলে চাষবাস ভালো হবে। অতিবৃষ্টিতে কেউ বানভাসি হবে না। হড়কাবান হবে না। তাই চাষবাস শুরু করার আগে কৃষিজীবি সবাই পাহাড়ে পুজো দেন।
