চলতি বছরে মা বিপত্তারিণীর ব্রত পালনের জন্য ভক্তরা দু’টি দিন পাচ্ছেন। প্রথম দিনটি হল ১৮ জুলাই (১ শ্রাবণ), শনিবার। আর দ্বিতীয় দিনটি হল ২১ জুলাই (৪ শ্রাবণ), মঙ্গলবার। এই দুই দিনই অত্যন্ত শুভ যোগে মা বিপত্তারিণীর আরাধনা করা যাবে। বাঙালি সনাতন ধর্মে বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। সংসারের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এবং সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর করতে হিন্দু মায়েরা ও বোনেরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন করে থাকেন। দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের অন্যতম এক রূপ হলেন মা সঙ্কটনাশিনী বিপত্তারিণী। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের রথযাত্রা থেকে উল্টো রথের মাঝে যে শনি ও মঙ্গলবার পড়ে, সেই দিনগুলিতেই দেবীর আরাধনা করা হয়। ২০২৬ সালে জুলাই মাসেই পড়েছে এই পুজোর মোক্ষম যোগ। জেনে নিন দেবীর কৃপা পাওয়ার আসল সময় ও কিছু জরুরি নিয়ম।
- পুজোর ডালায় কী কী রাখা আবশ্যক?
নোট করে নিন, ঘট, আম্রপল্লব, শিষসহ ডাব, একটি বিশেষ নৈবেদ্য তো লাগবেই। তার সঙ্গে লাগবে ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (যাতে ১৩টি দূর্বা বাঁধা থাকবে), ১৩ রকমের ফুল, ১৩ রকমের ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি আলাদা দূর্বা, ১৩টি পান এবং ১৩টি সুপুরি। পুজো শেষে এই ১৩টি গিঁটযুক্ত লাল সুতো বা ‘ডোর’ নারীদের বাঁ হাতে এবং পুরুষদের ডান হাতে বাঁধতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই পবিত্র সুতো অন্তত তিন দিন হাতে রাখা জরুরি।
- ভুলেও যা করবেন না –
- ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করা ভালো। পুজোর দিন উপবাস রেখে মা বিপত্তারিণীর পুজো সম্পন্ন করতে হয়।
- অঞ্জলি শেষে প্রসাদ হিসেবে ১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, চাল বা গমের তৈরি অন্য কোনও ভারী খাবার এদিন খাওয়া একেবারেই নিষেধ।
- শাস্ত্র মতে, পুজো চলাকালীন সম্পূর্ণ মৌনতা অবলম্বন করা উচিত, কারও সঙ্গে কথা বললে দেবী রুষ্ট হতে পারেন।
- এই দিনে ভুলেও ঘরের বাইরে কাউকে চিনি দান করবেন না, কারণ চিনি শুক্র ও চন্দ্রের প্রতীক, যা হাতছাড়া হলে সংসারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
- পরিবারের বাইরের কোনও মানুষকে এদিন টাকা ধার দেওয়া বা নেওয়া থেকেও বিরত থাকুন।
