ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর সমগ্র বাংলাজুড়ে যখন রাজতন্ত্র ও জমিদারি প্রথার অবসান ঘটে গেছে, তখনও পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রাম যেন এক অনন্য ব্যতিক্রম। এখানে আজও রাজা না থাকলেও রাজতন্ত্রের ধারা অটুট। সতীপীঠ মা যোগাদ্যা পুজো কমিটিতে আজও সেই প্রাচীন রাজতান্ত্রিক রীতিতেই চলে সবকিছু। রাজতন্ত্রের আদলেই পুজো পরিচালনা করা হয়। এখনও রয়েছে দারোগা, সভাপণ্ডিত, পাইক, নিশানধারী, মালাকার, কর্মকার, শাঁখারি এমন বহু পদ, যেগুলো একসময় রাজসভায় ছিল। নিয়ম মেনেই বসে সভা, হয় সিদ্ধান্ত। পুজো কমিটির সম্পাদক কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের বর্ধমানের মহারাজার কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত যে সকল মানুষরা রয়েছেন সেই তৎকালীন সময় থেকে তাঁরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমাদের যে পুজো কমিটি রয়েছে সেইভাবেই তাদেরকে নিয়ে রাজতন্ত্রের ধাঁচেই কাজগুলো পরিচালনা করি, রাজতন্ত্রের নিয়মানুসারেই চলে।”
ক্ষীরগ্রাম সতীপীঠের পেছনেও রয়েছে নানা গল্প। কথিত আছে, সতীদেহের ডান পায়ের আঙুল এই স্থানে পড়েছিল। দেবীর প্রস্তরমূর্তি সারা বছর রাখা থাকে জলে, গ্রামেরই ক্ষীরদিঘিতে। প্রতিবছর বৈশাখ সংক্রান্তির দিন দেবীকে জলের ভিতর থেকে তুলে মূল মন্দিরে পুজো করা হয়। ওইদিন রাতেই আবার দেবীকে জলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, এটাই রীতি। শুধু সংক্রান্তি নয়, বছরের বিশেষ কিছু দিনেও দেবীকে তুলে পুকুরপাড়ে পুজো করা হয়, সেটা ভক্তদের দেখতে দেওয়া হয়না। জানা যায়, এই পুজোর শুরু হয়েছিল বর্ধমান রাজপরিবারের হাত ধরে। তবে প্রায় ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে রাজপরিবার পুজোর ভার অর্পণ করে গ্রামের ট্রাস্টের হাতে। সেই সময় থেকেই রাজা নির্ধারিত পদগুলোর অনুসারেই আজও চলে মা যোগাদ্যা পুজোর কার্যক্রম।
