হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে তুলসীগাছ খুবই পবিত্র। হিন্দু ধর্মের মানুষেরা কমবেশি অনেকেই নিয়ম করে তুলসী গাছে পুজো করেন ও জল দেন। কিন্তু এই বিষয়ে ভারতীয় জ্যোতিষের কিছু পরামর্শ আছে। মলমাস (Malmas) বা পুরুষোত্তম মাস চলাকালীন হিন্দু ধর্মে পুজোআচ্চা, জপ ও দানধ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে এই পবিত্র মাস। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুরো মাসটি ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণুর চরণে উৎসর্গ করা হয়। আর যেখানে বিষ্ণুর আরাধনা, সেখানে তাঁর পরম প্রিয় তুলসি দেবীর উল্লেখ থাকবে না, তা কী করে হয়! জ্যোতিষবিদদের মতে, এই মলমাসে তুলসি পুজো করলে জীবনের যাবতীয় বাধা-বিপত্তি কেটে যায়। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা দারুণ ফলদায়ী হতে পারে। শাস্ত্র মতে, সন্ধ্যাবেলা তুলসি মঞ্চে একটি ছোট্ট কাজ করলেই ঘরে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী আসন পাকা হয়ে যায়। সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ফেরাতে এবং পকেট ভরতি রাখতে মলমাসের প্রতিদিন সন্ধেবেলা তুলসি গাছের সামনে গরুর খাঁটি ঘিয়ের একটি প্রদীপ জ্বালান।
তবে প্রদীপটি সরাসরি মাটিতে রাখবেন না, তার নিচে সামান্য অক্ষত বা গোটা আতপ চাল ছড়িয়ে দিন। প্রদীপ জ্বালানোর সময় মনে মনে অত্যন্ত ভক্তি সহকারে ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্রটি জপ করতে থাকুন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মলমাসের সন্ধ্যাবেলায় এই উপাচার নিয়ম মেনে করলে দেবী লক্ষ্মী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। এর ফলে চঞ্চল লক্ষ্মী সেই ঘরে স্থায়ীভাবে বাস করেন এবং সেখানে কখনও কোনও রূপ আর্থিক অনটন দানা বাঁধতে পারে না। শুধু সন্ধেবেলা প্রদীপ জ্বালানোই নয়, সকালের একটি বিশেষ নিয়মও আপনার ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মলমাসের যে কোনও দিন (তবে মনে রাখবেন রবিবার এবং একাদশী বাদে) সকালে স্নান সেরে একটি তামার ঘটিতে পরিষ্কার জল নিন। সেই জলের সঙ্গে সামান্য কাঁচা দুধ আর এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে দিন। এবার মনে মনে লক্ষ্মী-নারায়ণকে স্মরণ করতে করতে সেই মিশ্রিত জল তুলসি গাছের গোড়ায় অর্পণ করুন। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এই উপায়ের মাধ্যমে কোষ্ঠীতে বৃহস্পতি গ্রহ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর গুরু গ্রহ মজবুত হওয়া মানেই হল জীবনে ধন-ধান্য, মান-যশ এবং সৌভাগ্যের দরজা খুলে যাওয়া।
তুলসি পুজো করার সময় কিছু নিয়ম অত্যন্ত কড়াভাবে মেনে চলা উচিত, নচেৎ পুণ্য অর্জনের বদলে সংসারে ক্ষতি হতে পারে।
রবিবার ও একাদশী: রবিবার এবং একাদশী তিথিতে ভুল করেও তুলসি গাছ স্পর্শ করবেন না এবং জল দেবেন না
