কোনো কোনো ভক্তপ্রাণ মানুষ বছরের কোনো কোনো সময় পূজার উপাচার নিয়ে ঠিক উপস্থিত হয়ে যান এই মন্দিরে। মানুষের ধৰ্মীয় বিশ্বাস এই মন্দিরে দেবীর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে দেবী কখনো ফেরান না। দশ মহাবিদ্যার তৃতীয় রূপ এই ছিন্নমস্তা। অন্যতম শক্তিপীঠ! দেবীর এই রূপ ভয়ংকর। দেবী নিজের হাতে ধরে রেখেছেন তার ছিন্নমস্তক। আরেক হাতে তলোয়ার। দেবীর গলা থেকে নির্গত হচ্ছে তিনটি রক্তধারা। একটি তাঁর নিজের মুখে। অন্য দুটো তাঁর সহচরীর মুখে প্রবেশ করছে। দেবী নগ্ন অবস্থায় রতি সঙ্গমরত যুগলের দেহের উপর দণ্ডায়মান। তিনি একাধারে দিব্যজননীর জীবনদাত্রী এবং জীবনহন্তা স্বত্তার প্রতীক। তাঁর আত্মবলিদানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর মাতৃসত্ত্বা, আত্মবিধ্বংসী ক্রোধ। তিনি যতই ভয়ংকরী হন না কেন, তার চরণে মাথা ঠেকিয়ে ভক্তি ভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে সেই ইচ্ছা পূর্ণ হবেই। এই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন সারা বছরই ভিড় জমান ঝাড়খণ্ডের এই দেবী মন্দিরে।
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার রাজরাপ্পায় দেবী ছিন্নমস্তার এই মন্দির। কথিত আছে, এই মন্দির ৬ হাজার বছরের প্রাচীন। ছিন্নমস্তার নানা কাহিনি আছে। সবচেয়ে পৌরাণিক কাহিনিটি খানিকটা এরকম – দেবী তাঁর দুই সঙ্গী ডাকিনী এবং শাকিনীকে নিয়ে মন্দাকিনী নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলেন। স্নানরত অবস্থায় দেবীর সঙ্গীরা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। খাবারের জন্য দেবীর কাছে অনুরোধ জানান। তখন দেবী তাঁদের অপেক্ষা করার কথা বলেন। কিন্তু খিদের জ্বালায় ছটফট করতে থাকেন দেবীর দুই সঙ্গী।
ওই সঙ্গীরা দেবীকে বলেন, “যদি কোনও সন্তান ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে তখন মা তাঁর সমস্ত কাজ ভুলে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। আপনিও তো মা। তাহলে আপনি কেন আমাদের খিদে মেটাচ্ছেন না?” এরপরই দেবী ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে নিজের মাথাই কেটে নেন রক্তের ধারাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। রক্তের দুই ধারা দেবী তাঁর সঙ্গীদের দিকে প্রবাহিত করেন। তৃতীয় ধারা থেকে নিজের ক্ষুধা মেটান। এই ঘটনা থেকেই নাকি দেবীর এই রূপ ছিন্নমস্তা নামে পরিচিত।
