মাঘ পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো – যখন শুভ সূচনা হয়ে যায় বসন্ত কালের। প্রকৃতির রং বলে দেয় যে দুয়ারে বসন্ত উপস্থিত। সরস্বতী পুজো এলেই চারপাশে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে একটাই রং হলুদ। গায়ে হলুদ মাখা থেকে শুরু করে হলুদ শাড়ি বা পোশাক, এই রঙ যেন পুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু এই রীতিগুলো কি শুধুই সাজগোজের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয়, ঋতুভিত্তিক ও সামাজিক ব্যাখ্যা? সরস্বতী পুজো পালিত হয় বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে, যা বসন্ত ঋতুর সূচনা করে। বসন্ত মানেই প্রকৃতির রঙ বদল—সরষে ফুল, গাঁদা, পলাশ, নতুন ফসল—সবকিছুতেই প্রাধান্য পায় হলুদ রঙ। এই কারণেই ভারতীয় সংস্কৃতিতে বসন্তকে “হলুদের ঋতু” বলা হয়। বসন্ত পঞ্চমীতে হলুদ রঙ উদ্যম,পজিটিভ আশা ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
হলুদ ভারতীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্র মতে, হলুদকে শুদ্ধতা ও শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সরস্বতী পুজোর দিনে গায়ে হলুদ মাখা মানে শরীর ও মনকে শুদ্ধ করে দেবীর আরাধনার জন্য প্রস্তুত করা। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, হলুদ নেতিবাচক শক্তি দূর করে পজিটিভ হতে সাহায্য করে। এক প্রতিবেদনে জ্যোতিষবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হলুদ রঙ বৃহস্পতি গ্রহের প্রতীক, যা জ্ঞান, শিক্ষা ও বুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।জ্য়োতিষবিদদের মতো হলুদ রঙ বৃহস্পতি গ্রহের প্রতীক, যা জ্ঞান, শিক্ষা ও বুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। আবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় গায়ে হলুদ ও হলুদে থাকা কারকিউমিন (Curcumin) উপাদান অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণে সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ত্বকের জন্য হলুদ উপকারী এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
