বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বনের মধ্যে মধ্যে একটি ধৰ্মীয় পার্বন মৎস্য জয়ন্তী। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, সৃষ্টি যখন প্রলয়ের কবলে পড়েছিল, তখন জগতকে রক্ষা করতে মৎস্য রূপ ধারণ করেছিলেন ভগবান বিষ্ণু। সত্যযুগের সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করে প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয় ‘মৎস্য জয়ন্তী’। ২০২৬ সালেও এই পুণ্য তিথিটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে। শ্রীহরির দশাবতারের প্রথম রূপের আরাধনায় এদিন মেতে উঠবেন পুণ্যার্থীরা। পুরাণ মতে, রাজা সত্যব্রত যখন নদীতে তর্পণ করছিলেন, তখন তাঁর করপুটে একটি ছোট মাছ উঠে আসে। সেই মৎস্যরূপী নারায়ণই রাজাকে আসন্ন মহাপ্রলয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। বিশাল রূপ ধারণ করে তিনি সপ্তঋষি, ওষধি এবং বেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। সেই পৌরাণিক মাহাত্ম্যকে পাথেয় করেই এদিন মৎস্য অবতারের বিশেষ পূজা সম্পন্ন হয়।
তিথি ও শুভ মুহূর্ত –
২০২৬ সালে মৎস্য জয়ন্তী পালিত হবে ২১ মার্চ, শনিবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ২১ মার্চ রাত ২টো ৩০ মিনিটে। এই তিথি চলবে ওই দিন রাত ১১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। উদয়া তিথি মেনে শনিবারই উদযাপিত হবে জয়ন্তী। এদিন পুজোর জন্য বিশেষ প্রশস্ত সময় বা শুভ মুহূর্ত হল দুপুর ১টা ৪১ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ৭ মিনিট পর্যন্ত।
উপাসনা ও পাঠের মহিমা-
মৎস্য জয়ন্তীতে ভক্তরা সাধারণত উপবাস পালন করেন এবং বিষ্ণু মন্দিরে দর্শন করেন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করলে দুঃখ-দুর্দশা নাশ হয় এবং জীবনে স্থিতিশীলতা আসে। বিশেষ করে ‘বিষ্ণু সহস্রনাম স্তোত্রম্’ পাঠ করা এই দিনে অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হয়। ‘বিশ্বং বিষ্ণুর্বষট্কারো..’ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পরমাত্মার স্মরণ করলে ভক্তের মন শুদ্ধ হয় এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটে।
