রোজ সকালে কয়েক মিনিট সময় বের করে শিব স্তোত্র জপ করার পরামর্শ দিচ্ছেন আধ্যাত্মিক চর্চাকারীরা।শাস্ত্রে বলা হয়, দেবাদিদেব মহাদেব হলেন সংহার ও সৃষ্টির প্রতীক। তিনি একই সঙ্গে ধ্বংস ও পুনর্জন্মের শক্তির আধার। সংসারের ক্লান্তি, মানসিক চাপ, অস্থিরতার মধ্যে শিবের নামস্মরণ ভক্তকে এনে দেয় এক ধরনের অন্তর্গত দৃঢ়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শিব স্তোত্র জপ করলে মনোসংযোগ বাড়ে, উদ্বেগ কমে এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটে। অনেকেই সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে মহাদেবের আরাধনা করেন। কেউ আবার নিঃশব্দে বসে কেবল মন্ত্র জপ করেন। শিব স্তোত্রমের বিভিন্ন রূপ রয়েছে। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি স্তোত্র হল ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র। এই পঞ্চাক্ষরী মন্ত্রকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই মন্ত্র জপে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং মন পায় স্থিরতা।
আধ্যাত্মিক গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ভোরবেলা সূর্যোদয়ের আগে বা পরে পূর্বমুখী হয়ে বসে ১০৮ বার শিব মন্ত্র জপ করলে তার বিশেষ ফল মেলে। তবে কেবল নিয়ম নয়, ভক্তি ও মনোযোগই এখানে আসল। যান্ত্রিক ভাবে মন্ত্র জপ করলে ততটা সুফল মেলে না বলেই মত অনেকের। শিব স্তোত্রম পাঠের আরও একটি দিক হল মানসিক শুদ্ধি। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে মানুষের মনে জমে থাকে নানা ক্ষোভ, হতাশা, অশান্তি। দিনের শুরুতে কয়েক মিনিট ধ্যান ও মন্ত্রোচ্চারণ সেই নেতিবাচক আবেগকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। মনোবিজ্ঞানীদেরও মত, নিয়মিত প্রার্থনা বা ধ্যান মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
