ভারতীয় ধৰ্মীয়দর্শন বিশ্বাস করে যে বিশ্বের সমস্ত ধর্মের উৎস আসলে হিন্দু ধর্ম। তাই এক অর্থে সকলেই হিন্দু ধর্মের অংশ। সেই ব্যাখ্যা প্রসঙ্গেই মোহন ভাগবত বলেন, “, ‘হিন্দু’ কোনও বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ। ভারতে যাঁরা বাস করেন, প্রত্যেকেই হিন্দু।” স্বাভাবিক কারণেই এই ধরনের ব্যাখ্যা খুবই পছন্দ হয়েছে ভাইজানের। প্রসঙ্গত শিকাগো ধর্ম মহাসভায় গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ এই কথাই বলেছিলেন। মুম্বইয়ের ওই অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, সংঘ শুরু থেকেই ঠিক করেছিল, তারা শুধুমাত্র সমগ্র সমাজকে সংগঠিত করার কাজই করবে, এর বাইরে আর কিছু নয়। তাঁর কথায়, ‘অনেকে বলেন নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর একটি আলাদা রাজনৈতিক দল আছে, বিজেপি। সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন, কিন্তু সংঘ ক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার সন্ধানে নেই।’ এদিকে, সলমন খানকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তৃতা মনোযোগ সহকারে শুনতে দেখা গেছে। তিনি বক্তৃতায় সম্পূর্ণ মগ্ন ছিলেন।তাঁর ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং প্রখ্যাত গীতিকার, কবি এবং লেখক প্রসূন যোশীও। তিনজনই মনোযোগ সহকারে মোহন ভাগবতের বক্তৃতা শুনেছিলেন।
আরএসএস প্রধানের বক্তব্য, ‘সংঘ কোনও প্রতিযোগিতা বা বিরোধিতার রাজনীতি করতে বেরোয়নি। আমাদের কাজ কারও বিরোধিতা না করেই সম্পন্ন হয়। সংঘ ক্ষমতা খোঁজে না, জনপ্রিয়তা খোঁজে না। দেশে যে ভালো কাজগুলি হচ্ছে, সেগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেই সংঘের অস্তিত্ব।’ধর্ম ও সমাজব্যবস্থা প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, ‘ভারতের চিরন্তন স্বভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। ঋষি ও সন্তরা বিশ্বাস করতেন, যেহেতু সবাই আমাদেরই অংশ, তাই জ্ঞান সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ধর্ম ভারতের প্রাণ। একসঙ্গে চলার জন্য শৃঙ্খলা প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে সমাজ এগোতে পারে না।’ ভগবত ব্যাখ্যার একদম গভীরে প্রবেশ করেন সলমন খান।
