এ এক আশ্চর্যর বিষয়। তারা কিনা বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ভিখারি! ব্যাপার কি! মুম্বইয়ের বাসিন্দা ভরত জৈনকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিখারি বলে মনে করা হয়। ভরত মূলত ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস এবং আজাদ ময়দানের মতো অভিজাত এলাকায় ভিক্ষা করেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়। মুম্বইয়ে তাঁর ১.২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ২-বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে। শুধু তাই নয়, থানেতে তাঁর দুটি দোকানও আছে, যেগুলি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ টাকা ভাড়া পান। তাঁর সন্তানরা কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছে এবং পরিবারটি একটি সফল ব্যবসাও পরিচালনা করে।
দ্বিতীয় নম্বরে আছে কলকাতার লক্ষ্মী দাস। ১৯৬৪ সাল থেকেই ভিক্ষা করা শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর জীবনের ৫০ বছরেরও বেশি সময় কলকাতার রাস্তায় কাটিয়েছেন। যখন তাঁর সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে আসে, তখন সবাই অবাক হয়ে যায়। লক্ষ্মী দাসের ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা ছিল। তিনি প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতেন। তাঁর সঞ্চয় এতটাই বেশি ছিল যে বার্ধক্যের জন্য তিনি একটি বড় অঙ্কের ব্যাংক ব্যালান্স গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। তাঁর গল্প প্রমাণ করে যে ধারাবাহিকতা যেকোনো কাজকেই ‘কোটিপতি’ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
এর পরেই নাম পাওয়া যায় মুম্বইয়ের চর্নি রোড এলাকায় ভিক্ষা করা গীতা। গীতার গল্পও বেশ পরিচিত। তিনি প্রায়ই রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখা যান, কিন্তু বাস্তবে তাঁর নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত ফ্ল্যাট রয়েছে। জানা যায়, ভিক্ষা করেই গীতা এত টাকা উপার্জন করেছেন যে মুম্বইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে নিজের বাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন এবং তাঁর জীবনযাত্রার মান বেশ ভালো। তাঁর দৈনিক আয় এতটাই বেশি যে তা অনেক মধ্যবিত্ত কর্মচারীর বেতনের থেকেও বেশি।
এছাড়া আছে সর্বতিয়া দেবী: পাটনার বাসিন্দা সর্বতিয়া দেবী ভারতের সবচেয়ে পরিচিত নারী ভিখারিদের মধ্যে একজন। তিনি পাটনা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ভিক্ষা করেন। তিনি প্রতি বছর প্রায় ৩৬,০০০ টাকা বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন, যা তাঁর আর্থিক সচেতনতার প্রমাণ। তাঁর নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত বাড়ি রয়েছে এবং তিনি তাঁর কন্যার বিয়েতে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ করেছেন। সর্বতিয়া দেবী ভিক্ষা করে শুধু নিজের জীবনকে সামলাননি, বরং দেশের বিভিন্ন তীর্থ স্থানের ভ্রমণও করেছেন।
