দোলযাত্রা বা দোলপূর্ণিমা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা রঙের উৎসব ও বসন্ত উৎসব হিসেবে পরিচিত। এটি প্রধানত শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার দৈব প্রেম এবং রঙের খেলার স্মরণে উদযাপিত হয় । বৈষ্ণব বিশ্বাসে, এই দিনেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অবতীর্ণ হয়েছিলেন বলে একে ‘গৌর-পূর্ণিমা’ও বলা হয় ।
দোলযাত্রার পৌরাণিক ও
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা: পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সাথে আবির ও গুলাল নিয়ে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। এই আনন্দঘন ঘটনা থেকেই দোল খেলার সূচনা। - শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব: ১৪৮৬ সালের এই পূর্ণিমা তিথিতেই নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হয়, যা দোল উৎসবকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
- হোলিকা দহন (নেড়াপোড়া): দোলের আগের দিন সন্ধ্যায় অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে হোলিকা দহন বা ‘মেড়াপোড়া’ উৎসব পালিত হয়, যা হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার আগুনে পুড়ে মরে যাওয়ার কাহিনী স্মরণ করিয়ে দেয়।
- বসন্ত উৎসব: এটি মূলত শীতের শেষে বসন্তের আগমনকে স্বাগত জানানোর উৎসব ।
- শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে দোলের দিন বা তার আগে বসন্ত উৎসবের সূচনা করেন, যা বাংলার সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
- উদযাপনের রীতি:
এই দিনে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিকে দোলায় বসিয়ে আবির ও রঙের মাধ্যমে পূজার্চনা করা হয় এবং দোলা বা দোলনা ঘোরানো হয়, যাকে ‘দোলযাত্রা’ বলা হয়। সব বয়সের মানুষ আনন্দে আবির ও রঙ খেলায় মেতে ওঠেন
