www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

January 26, 2026 12:42 pm

এই বছর ঘটনাচক্রে নেতাজির জন্মদিন ও সরস্বতী পুজো একই দিনে পরে।

এই বছর ঘটনাচক্রে নেতাজির জন্মদিন ও সরস্বতী পুজো একই দিনে পরে। তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই মনেপরে সেই ১৯২৪-‘২৫ সালের কথা। সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে বহুবার ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করার কারণে জেলে বন্দি ছিলেন। ১৯২৪-২৫ সালের দিকে তিনি বহরমপুর জেলেও ছিলেন এবং সেই সময়ই তিনি সরস্বতী পুজো আয়োজন করার দাবি তোলেন। শুরুতে রাজি হয়নি জেল কতৃপক্ষ। কিন্তু নেতাজির দৃঢ় অবস্থান ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জেলেই পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। মানুষের মনে স্বাধীনতা ও শিক্ষা-চেতনা জাগ্রত করাও ছিল তাঁর লক্ষ্য। এই ঘটনাটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না; এটি তখনকার মানুষের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার খোঁজ ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রকাশ হিসেবেও দেখা হয়। নেতাজি বিশ্বাস করতেন, জেল কিংবা বিপদের মাঝেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত। যদিও সেই সময়ের পুজোর আয়োজনে উপকরণের অভাব থাকলেও, বন্দিদের জন্য জেলেই বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল তাই এই ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

নেতাজির সঙ্গে জড়িয়ে আরও একটি সরস্বতী পুজোর ঘটনা। প্রায় শতবর্ষ আগে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এক কলেজ হস্টেলের সরস্বতী পুজো নিয়ে। ১৯২৮ সালে সিটি কলেজ হস্টেলে ছাত্রদের সরস্বতী পুজো করাতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। সে বছর সরস্বতী পুজো পড়েছিল ২৭ জানুয়ারি। হস্টেলের ছাত্ররা গোপনে পরামর্শ করে স্থির করেন তাঁরা বিনা অনুমতিতে অথবা কর্তৃপক্ষের নিষেধ অগ্রাহ্য করেই কলেজে সরস্বতী পূজা করবেন। সিটি কলেজ ব্রাহ্ম মতের অনুসারী, সরস্বতী পুজো ওই হস্টেলের নিয়মবিরুদ্ধ। তবে গোপনে সরস্বতী পুজো করার জন্য কতৃপক্ষ আর ছাত্রদের মধ্যে সংঘাত হয়। সরস্বতী পুজো নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থানের প্রতিবাদে ১ মার্চ অ্যালবার্ট হলে ডাকা হয় সভা। সভাপতি ছিল স্বামী অভেদানন্দ। তৎকালীন এক বহুল প্রচলিত সংবাদপত্রে লেখা হয়েছিল এই ঘটনা। সে সভায় সুভাষচন্দ্র বলেন, ‘এই আন্দোলনকে আমি কীভাবে দেখি অনেকেই তা জানতে আগ্রহী। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্বাধীনতা-সংগ্রামে আমি দেশের তরুণদের সঙ্গে একমত। “

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *