দুর্গা পুজোর মতো কালনার সব বারোয়ারি পুজো কিন্তু চলবে তিনদিন ধরে। এখানে সরস্বতী পুজোয় যেন হয়ে ওঠে দুর্গাপুজো। জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য যেমন বিখ্যাত চন্দননগর, কাটোয়ায় যেমন বিখ্যাত কার্তিকের লড়াই, ঠিক তেমনই কালনা সরস্বতী পুজোর জন্য বিখ্যাত। মহিষমর্দিনী পুজোয় এখানে প্রচুর ধুমধাম হয়। তাছাড়া বছরের সেরা উৎসব এই সরস্বতী পুজো। কালনায় দুর্গা পুজোতেও এতো আড়ম্বর দেখা যায় না। এবার প্রশাসন অনুমোদিত বিগ বাজেটের সরস্বতী পূজা হচ্ছে ৫৪টি। এ ছাড়াও শতাধিক বারোয়ার সরস্বতী পুজো রয়েছে।
সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবমুখর পূর্ব বর্ধমান জেলার গঙ্গাতীরের মন্দির শহর কালনা। এই শহরের সরস্বতী পুজো ইতিহাস ৩০০ বছরের বেশি। তখন থেকেই এখানে আড়ম্বরের সঙ্গে সরস্বতী পূজার আয়োজন চলে আসছে। সাবেকিয়ানার পাশাপাশি এখন থিমের পুজো আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এখানকার পুজোয়।
কালনার সরস্বতী পুজো বিখ্যাত বিশাল বিশাল থিমের মণ্ডপ, বিশাল প্রতিমা ও বাহারি আলোকসজ্জার জন্য। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলা নয়, পাশের নদিয়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ জেলা সহ রাজ্যের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই বাসিন্দারা কালনার সরস্বতী পুজো দেখতে ভিড় করেন। এবার বৃহস্পতিবার থেকেই পুজোর মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। পুজো চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেদিন শোভাযাত্রা সহকারে সব প্রতিমা নিয়ে গিয়ে মহিষমর্দিনী ঘাটে গঙ্গায় ভাসান হবে। ৩০০ বছর আগে এই কালনা বিদ্যা চর্চার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।এখানে অনেক টোল, চতুষ্পাটি ছিল। তারানাথ তর্কবাচস্পতির মতো পণ্ডিতরা এখানে বিদ্যাচর্চা করাতেন। সেই সময় থেকেই এখানে সরস্বতী পুজোর প্রচলন ঘটে। ধারাবিবাহিকভাবে সেই পুজো তখন থেকে চলে আসছে। এখন থিমের পুজোয় মেতে উঠেছে বিভিন্ন বারোয়ারি। পুজো শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
