www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 9, 2026 10:28 am

হিন্দু ধর্মে এমন বহু নিয়ম প্রচলিত আছে, যা হয়তো আমরা সবটা জানি না।

হিন্দু ধর্মে এমন বহু নিয়ম প্রচলিত আছে, যা হয়তো আমরা সবটা জানি না। আমরা অনেক সময় দেখি ঠাকুর দেখার পরে আমরা মন্দির প্রদক্ষিণ করি। কিন্তু কেন করি?অনেকে একে নিছক একটি প্রথা মনে করে পালন করলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক, বৈজ্ঞানিক এবং পৌরাণিক কারণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই পরিক্রমা এত গুরুত্বপূর্ণ। পরিক্রমা শব্দের অর্থ হলো কোনও পবিত্র বস্তু, স্থান বা দেবতার চারপাশ ঘুরে আসা। শাস্ত্র অনুযায়ী, পরিক্রমা সবসময় ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক থেকে শুরু করা হয়, যাতে ভগবান সবসময় আমাদের ডান দিকে থাকেন। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মনে করা হয় এর মাধ্যমে মন্দির চত্বরে থাকা ইতিবাচক আধ্যাত্মিক শক্তি ভক্তের শরীরে সঞ্চারিত হয়।

পরিক্রমার মাহাত্ম্য বুঝতে গেলে মহাদেব ও পার্বতীর দুই পুত্র— গণেশ ও কার্তিকের সেই বিখ্যাত কাহিনিটি স্মরণ করতে হয়। পৌরাণিক কথা অনুসারে, একবার ভগবান শিব ও মাতা পার্বতী তাঁদের দুই পুত্রকে একটি প্রতিযোগিতার কথা বলেন। শর্ত ছিল, যে সবার আগে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড পরিক্রমা করে ফিরবে, সেই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হবে। কার্তিক কালবিলম্ব না করে তাঁর বাহন ময়ূরে চড়ে ব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ তাঁর বাহন ইঁদুর নিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের দিকে না গিয়ে নিজের বাবা-মায়ের চারপাশেই পরিক্রমা শুরু করেন। তিনি ভক্তিভরে বলেন, তাঁর কাছে তাঁর মা-বাবাই হলেন সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড। গণেশের এই ভক্তি ও বুদ্ধিতে তুষ্ট হয়ে শিব-পার্বতী তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। সেই থেকেই পরিক্রমাকে ঈশ্বরের প্রতি সর্বোচ্চ ভক্তি ও পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে, মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবতার মূর্তিকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ শক্তির বলয় তৈরি হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *