www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 10, 2026 11:31 am

হিন্দু ধর্মে কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব আছে। বিশ্বাস করা হয়, এই অমাবস্যায় উপবাস থেকে দেবীর পুজো দিলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

হিন্দু ধর্মে কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব আছে। বিশ্বাস করা হয়, এই অমাবস্যায় উপবাস থেকে দেবীর পুজো দিলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। এবার কৌশিকী অমাবস্যাপালিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ওই দিন সকাল ১০টা ১১ মিনিটে এবং শেষ হবে পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। তাই উদয়া তিথি হিসাবে ধরলে, ১০ সেপ্টেম্বরই কৌশিকী অমাবস্যার প্রধান দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলত, কৌশিকী অমাবস্যা হবে বৃহস্পতিবার। তাই মূল পুজো ও ধর্মীয় আচার পালনের প্রধান দিন হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরকেই ধরা হচ্ছে। ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি স্নান, দান ও পিতৃতর্পণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পশ্চিমবঙ্গে এই বিশেষ রাতের রয়েছে আলাদা মাহাত্ম্য। বিশেষ করে তারাপীঠে এই অমাবস্যা পরিচিত কৌশিকী অমাবস্যা বা ‘তারা রাত্রি’ নামে। এই উপলক্ষে মা তারার দর্শনের জন্য মন্দিরে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত। , পাশাপাশি সাধকরা সারারাত মন্ত্রজপ, ধ্যান ও বিশেষ সাধনায় মগ্ন থাকেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অমাবস্যার এই রাতে মা তারার আরাধনা করলে ভয়সংকট ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি লাভ করা যায়।

কৌশিকী অমাবস্যার রাতে তারাপীঠ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ পুজো, আরতি এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা মা তারার দর্শনের জন্য সেখানে ভিড় করেন। রাতভর চলতে থাকে বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম। পৌরাণিক কাহিনী বলে, একটা সময় শুম্ভ, নিশুম্ভের দাপটে অত্যিষ্ট হয়ে ওঠেন মানুষ। ব্রহ্মার বরে শুম্ভ ও নিশুম্ভ কেবল কোনো অযোনিসম্ভূতা নারীর (যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি) হাতেই বধ হতে পারত। সেই বর অনুসারে, মানস সরোবরে মহাদেবী স্নানের পর তাঁর গাত্রবর্ণ পরিত্যাগ করেন। তপস্যার পর স্নান করতেই দেবীর গায়ের সমস্ত কালো কোষ ঝরে যায় এবং তিনি দীপ্তিময়ী রূপ ধারণ করেন। কোষ ঝরে পড়ার ফলে তিনি অযোনিসম্ভূতা নারী হন। অন্যদিকে, এর আগে, তাঁর কোষের কৃষ্ণ বর্ণের কারণে, মহাদেব তাঁকে কালিকা বলে সম্বোধন করতেন। কোষ ঝরে যেতেই দেবী কৌশিকী রূপ ধারণ করলেন। যেহেতু তাঁর জন্ম কোন মাতৃগর্ভ থেকে হয়নি, তাই ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যা তিথিতে তিনিই মহাশক্তিশালী শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করে ত্রিলোক রক্ষা করেন। সেই থেকেই এই অমাবস্যা তিথিকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে কৌশিকী অমাবস্যা হিসাবে পালন করা হয়। এদিকে, তারাপীঠ মহাশ্মশানে কৌশিকী অমাবস্যার কাহিনী মূলত মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের সঙ্গে জড়িত। ফলত, এই তিথি অনুসারে তারাপীঠে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয় প্রতিবছর।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *