বারাসাতে অভিনব আয়োজনে পালিত হল ‘বন্ধু ষষ্ঠী’, বন্ধুত্বের বন্ধনে ফিরল ছোটবেলার স্মৃতি। বন্ধুত্বের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা সীমারেখা নেই। জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ে বন্ধুই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ভরসা। সেই বন্ধুত্বকেই আরও দৃঢ় করতে বারাসাতে অনুষ্ঠিত হল এক অভিনব ‘বন্ধু ষষ্ঠী’ উদযাপন। বারাসাত অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন পুরনো বান্ধবী। উদ্যোক্তাদের মতে, ক্লাস ফাইভ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়াশোনা করা এই বন্ধুদের অনেকেই পরবর্তীকালে জীবনের নানা ব্যস্ততায় একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তবে বন্ধুত্বের টানেই ফের যোগাযোগ তৈরি হয়। সেই সম্পর্ককে অটুট রাখার অঙ্গীকার নিয়েই পাঁচ বছর আগে শুরু হয় ‘সহচরি’-র পথচলা।
এবার ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এই অভিনব বন্ধু ষষ্ঠী পালনের। এই অনুষ্ঠানে ছিল একেবারে শৈশবের আবহ। বন্ধুদের হাতে বন্ধুরাই মঙ্গলসূত্রের প্রতীকী বন্ধন বেঁধে একে অপরের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। ফুল, মিষ্টি, প্রদীপ, পাখার বাতাস-সহ ছোটবেলার স্কুল জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতির নানা প্রিয় খাবারও স্থান পায় এই আয়োজনে। বনকুল, পপিন্স, হজমি, চটপটা, লজেন্স-সহ হারিয়ে যেতে বসা শৈশবের স্বাদের নানা উপকরণ জোগাড় করে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন বন্ধুরা। সকলেই যেন মুহূর্তের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন স্কুলজীবনের সেই পুরনো দিনগুলিতে। উদ্যোক্তারা আরও জানান, শুধু বন্ধুত্ব উদযাপনই নয়, ‘সহচরি’-র সদস্যরা সারা বছর সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজও করে থাকেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তাঁরা মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। বন্ধু ষষ্ঠীর এই আয়োজনও ছিল একে অপরের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টা।
