www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

May 31, 2026 9:58 am

জ্যোতিষ মতে একটি মন্দিরের সর্বত্র ঈশ্বরের বাস। তাই সমস্ত জায়গাকেই 'পবিত্র' বলেই মনে করতে হবে।

জ্যোতিষ মতে একটি মন্দিরের সর্বত্র ঈশ্বরের বাস। তাই সমস্ত জায়গাকেই ‘পবিত্র’ বলেই মনে করতে হবে। মন্দিরের গর্ভগৃহে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর ঘন্টির শব্দ। মন ভালো হয়ে যায় নিমেষেই। দেবদর্শনের পর আমরা কেউ কেউ মন্দিরের সিঁড়িতে কিছুক্ষণ বসি। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক রহস্য। শাস্ত্রমতে, এই সামান্য বসার অভ্যাসে যদি একটুও ত্রুটি থাকে, তবে পুণ্যলাভের বদলে জীবনে নেমে আসতে পারে চরম অমঙ্গল। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, একটি গোটা মন্দিরের অবয়ব আসলে স্বয়ং ঈশ্বরের মূর্ত প্রতীক। মন্দিরের শিখর বা চূড়াকে যদি ঈশ্বরের মুখমণ্ডল ধরা হয়, তবে প্রবেশপথের সিঁড়িগুলি হল তাঁর ‘চরণপাদুকা’ বা পদযুগল। সেই কারণেই ভক্তরা মন্দিরে ঢোকার আগে পরম ভক্তিতে সিঁড়ি স্পর্শ করে প্রণাম করেন। মনে করা হয়, ভগবানের চরণের কাছে বসে মনে মনে প্রার্থনা জানালে তা সরাসরি ঈশ্বরের দরবারে পৌঁছায়।

জ্যোতিষ মতে পুজো শেষে সিঁড়িতে শান্ত হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের ধ্যান করা উচিত। শাস্ত্রে এই সময় একটি বিশেষ শ্লোক পাঠ করার কথা বলা হয়েছে— ‘অনায়াসেন মরণম, বিনা দৈন্যেন জীবনম। দেহান্ত তব সানিধ্যম, দেহি মে পরমেশ্বরম।’ অর্থাৎ, হে পরমেশ্বর! শেষ জীবনে যেন কোনও কষ্ট পেতে না হয়, জীবন যেন কাটে সচ্ছলতায় এবং মৃত্যুর পর যেন তোমার শ্রীচরণে স্থান পাই। কিন্তু এখানেই আমরা ভুল করি। বহু মানুষই মন্দিরের সিঁড়িকে আড্ডার জায়গা বানিয়ে ফেলেন। সেখানে বসে সংসারের কূটকচালি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরনিন্দা বা রাজনীতির আলোচনাও চালিয়ে যান নির্দ্বিধায়। শাস্ত্র বলছে, এই পবিত্র ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্রে বসে নেতিবাচক আলোচনা করলে তার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে ব্যক্তির ওপর। পুণ্য তো দূর অস্ত, উলটে ক্ষতি হয় নিজেরই।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *