অনেকেই বাড়িতে কুকুর রাখেন। তাদের কিছু কাজ সাধারণ বলে মনে হয় এবং খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয় না। কিন্তু তাদের অভ্যাস এবং কাজের পিছনে একটি বড় কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, গৃহপালিত কুকুর সবসময় ঘরের দরজার কাছে ঘুমায়, বিছানা বা সোফার কাছে নয়। এটি কারও কাছে অস্বস্তিকর বা অদ্ভুত মনে হতে পারে। মনে হয় বিছানার পাশে আরামে ঘুমানো এমনই। তবে, গৃহপালিত কুকুরের এই অভ্যাসের পিছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
- প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিঃ কুকুর বন্য কুকুরের বংশধর। তাদের বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। বনের গুহার প্রবেশপথের কাছে ঘুমানোর ফলে তারা বিপদ লক্ষ্য করতে এবং তাদের দলকে রক্ষা করতে পারে। এই প্রবৃত্তি গৃহপালিত কুকুরের মধ্যেও বিদ্যমান। যদি তারা দরজা বা চৌকাঠের কাছে বিশ্রাম নেয়, তাহলে কুকুর মানুষের পদচিহ্ন শুনতে পারে এবং সেখানে কী ঘটছে তা বুঝতে পারে। এটি তাদের আশেপাশের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। এটি তাদের পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি এবং বাড়ির অভিভাবক হওয়ার অনুভূতি দেয়।
- তাদের অঞ্চল রক্ষা করাঃ কুকুররা তাদের বাড়িকে তাদের অঞ্চল বলে মনে করে। দরজা হল মূল প্রবেশপথ, তাই তারা দেখতে পারে কে আসছে এবং যাচ্ছে। কুকুরের আচরণের উপর গবেষণায় দেখা গেছে যে এই পাহারাদার আচরণ স্বাভাবিক। কুকুররা যখন আত্মবিশ্বাসী এবং তাদের বাড়ির সাথে ভালভাবে মানিয়ে নেয় তখন এটি করে। দরজার কাছে শুয়ে থাকা ইঙ্গিত দেয় যে তারা বাড়িতে তাদের ভূমিকায় নিরাপদ এবং আরামদায়ক।
- আবেগের কারণঃ দরজার কাছে শুয়ে থাকা কুকুরের মানসিক অবস্থা নির্দেশ করে। শান্ত, আত্মবিশ্বাসী কুকুর দেখায় যে তারা নিরাপদ এবং প্রতিরক্ষামূলক বোধ করে। তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে কিন্তু সতর্ক থাকে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, এই আচরণ উদ্বেগ বা চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। অস্থির, ভীত, বা গভীর ঘুমে অক্ষম কুকুরগুলি সতর্ক থাকার জন্য ক্রমাগত দরজার দিকে তাকাতে পারে। এগুলি লক্ষণ যে কুকুরটি উদ্বিগ্ন।
- দরজায় ঘুম তাদের কীভাবে প্রভাবিত করে? কুকুররা মানুষের চেয়ে আলাদাভাবে ঘুমায়। তারা সারা দিন হালকা ঘুম এবং গভীর ঘুমের মধ্য দিয়ে যায়। দরজার কাছে ঘুমানোর ফলে তারা তাদের চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার সময় বিশ্রাম নিতে পারে। কুকুররা তাদের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার সময় তাদের পরিবারের কাছাকাছিও থাকতে পারে। এই ভারসাম্যের কারণেই তারা দরজার কাছে একটি জায়গা খোঁজে।
