রামকেলি মদনমোহন জীউ মন্দির হল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার রামকেলি গ্রামের একটি বৈষ্ণব মন্দির। এই মন্দিরে হিন্দু দেবতা কৃষ্ণকে মদনমোহন রূপে উপাসনা করা হয়। এটি মালদা জেলার ধ্বংসপ্রাপ্ত মধ্যযুগীয় শহর গৌড়ে অবস্থিত। মহাবৈষ্ণব হিসাবে পরিচিত রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী দ্বারা নির্মিত, মন্দিরটি গ্রামের উত্তর অংশে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান মন্দির ভবনটি জেলার দালান ও রত্ন স্থাপত্য সংমিশ্রণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ, তবে মন্দিরটি ১৬তম শতকের প্রথম দশকে স্থাপিত হয়েছিল। মদনমোহন জীউ মন্দিরটি হল গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের বাংলা জুড়ে বিস্তারের ফসল। এই মন্দির মদনমোহন জীউ ট্রাস্ট কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়।
মন্দিরটি ১৫০৯ খ্রীষ্টাব্দে মহাবৈষ্ণব গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী রামকেলিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মহাপ্রভু চৈতন্যদেব ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুন জৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে বৃন্দাবন যাত্রাকাল রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।মন্দিরটি ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, এই সময়ে বর্তমান মন্দির ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে মহাপ্রভু চৈতন্য চরণ মন্দির, অতিথি আবাস ও মন্দিরে ঢোকার মূল প্রবেশদ্বার সহ রামকেলি মদনমোহন জীউ মন্দির সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। মন্দিরের প্রাঙ্গণটি একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে প্রবেশদ্বার রয়েছে। প্রাঙ্গণের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বারান্দ সহ একাধিক কক্ষ বিশিষ্ট লম্বা ভবন রয়েছে, যেগুলি মন্দিরের কাজে ব্যবহার করা হয়। মন্দিরটি প্রাঙ্গণের চতুর্দিকে সাতটি পুকুর অবস্থিত।
